শ্যামনগরে ফসলি জমি থেকে বালি উত্তোলন

আপডেট: 06:57:37 26/10/2020



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সড়কে কার্পেটিং করার অজুহাতে শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন কৈখালী এলাকায় জাদা গ্রামে ফসলি জমিতে বোরিং করে বালি উঠানো হচ্ছে।
সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারের পক্ষে পাতড়াখোলা গ্রামের নুরুল ইসলাম ও আনছার আলী লোকজন নিয়ে টানা ১৫ দিন ধরে অবৈধভাবে ওই বালি উঠাচ্ছেন। সড়ক তৈরির কাজে প্রয়োজনীয় প্রায় দেড় লাখ ঘনফুট বালি এলাকার ফসলি জমি থেকেই সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এলাকাটি নদী ভাঙনকবলিত। এর ওপর এই এলাকা থেকে বালি উঠানোর ফলে গুরুতর সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাদা গ্রামে আমন ধানের ক্ষেত-লাগোয়া পুকুরে দুটি ড্রেজার স্থাপন করে জমির তলদেশ হতে বালি উঠানো হচ্ছে। এই বালি রাস্তা নির্মাণের জন্য ‘স্যান্ড ফিলিং’-এর কাজে ব্যবহার করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সীমান্তবর্তী কালিন্দি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত দুই হাজার ৯০০ মিটার রাস্তা ভরাটের কাজে একই এলাকা থেকে বালি উঠানো হবে বলেও জানান তারা।
দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সন্ন্যাসী ডাক্তারের বাড়ি হয়ে কালিন্দি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ইটের সোলিং রাস্তায় কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৯০০ মিটার রাস্তার কাজ চলতি অর্থবছরে সম্পন্নের নির্দেশনাও রয়েছে।
আহম্মদ আলীসহ কয়েক গ্রামবাসী জানান, ঠিকাদারের কাছ থেকে পাতড়াখোলা গ্রামের নুর ইসলাম ও আনছার আলী ওই রাস্তার স্যান্ড ফিলিংয়ের কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। সাড়ে ছয় টাকা ঘনফুট চুক্তি মোতাবেক তারা রাস্তার কাজের জন্য বালি সরবরাহের দায়িত্ব নিলেও এখন পাশের জমি থেকে বালি উঠাচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কয়েকজন জমির মালিককে দেড় টাকা ফুট হিসেবে অগ্রীম টাকা পরিশোধ করে নুর ইসলাম ও আনছার আলী নিজেদের লোকজন নিয়ে দিনরাত দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উঠাচ্ছেন। কয়েকজন জমির মালিক টাকা নিতে সম্মত না হওয়ায় তাদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আবুজার রহমানসহ কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সুন্দরবন-সংলগ্ন ও ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাটি অত্যন্ত দুর্যোগপ্রবণ। বাঁধ ও নদী ভাঙন এখানে নিত্যকার ঘটনা। এমতাবস্থায় ফসলি জমিতে বোরিং করে বালি উত্তোলনের কারণে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা ভেবে তারা শংকিত।
তবে বালি উঠানোর দায়িত্বে থাকা নুর ইসলাম বলেন, ‘কাউকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। উন্নয়ন কাজের স্বার্থে পাশের জমি থেকে বালি নেওয়া হচ্ছে।’
এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি স্থানীয় ‘সাংবাদিকনেতাদের’ সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। এক পর্যায়ে তিনি ‘চা-পানি’ খাওয়ারও দাওয়াত দেন।
সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্থানীয় নুর ইসলাম ও আনছার আলী বালি সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছে। তবে কোথা থেকে বালি দিচ্ছে বা দেবে তা আমার জানা নেই।’

আরও পড়ুন