শ্যামনগরে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে ক্ষতি দুই কোটি টাকা

আপডেট: 10:39:44 12/11/2019



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর তাণ্ডবে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খুব বেশি ক্ষতি না হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিশাল অংকের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭টি। এছাড়া ৩৬টি দাখিল ও দশটি এবতেদায়ি মাদরাসাসহ সাতটি কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে উপজেলার ৪৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও বুলবুল এর তাণ্ডবের শিকার হয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৩ লাখ টাকা। এছাড়া কলেজসমূহে সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও দাখিল মাদরাসাগুলোতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এবতেদায়ি মাদরাসাসমূহে সাড়ে দশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৫২ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র মতে, প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানে গাছ পড়ে কিংবা গাছ উপড়ে ভবনের ওপর পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ছাউনি উড়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে অল্পবিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হলেও তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিশাল অংকের ক্ষতির তালিকা জমা দিয়েছে। নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে এই ফাঁকি ধরা পড়বে।
তাদের দাবি ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি টিন উড়ে গেলেও শিক্ষা অফিস থেকে সরবরাহকৃত তালিকায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। একইভাবে বংশীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও তালিকায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ তিন লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ ছিল।

আরও পড়ুন