সমঝোতায় ছয় ঘণ্টা পর বেনাপোলে বাণিজ্য সচল

আপডেট: 10:02:49 14/01/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : প্রায় ছয় ঘণ্টা পর কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সচল হয়েছে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম।
বেনাপোল বন্দরে চোরাচালানে সহযোগীতার অভিযোগ এনে কাস্টমস কর্তৃক এক সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যকে লাঞ্ছিত, কার্ড বাতিল ও মামলা প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে স্টাফ সদস্যরা কর্মবিরতির ডাক দিয়ে কাস্টমস কার্গো শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। একইসাথে কাস্টমস হাউজের সামনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা করে। চলমান সমস্যার সমাধান হওয়া পর্যন্ত পণ্য খালাস বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্য আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, 'বুধবার রাতে একটি কয়লার ট্রাক যখন ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন আমি বর্ডারের কার্গো শাখা থেকে ওই পণ্যের মেনিফিস্ট নাম্বার ও ইনভয়েস তুলে বাড়িতে চলে আসি। পরবর্তীতে রাতে কাস্টমস কর্মকর্তারা আমাকে ফোন করে বন্দরের ট্রাকটারমিনালে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি একটি ট্রাক থেকে ফেনসিডিল ও আমি যে ট্রাকটির কাগজপত্র তুলি সে ট্রাকটি থেকে ওষুধ উদ্ধার করে। সে সময় কাস্টমস কর্মকর্তার আমার কাছ থেকে কাস্টমস কার্ডটি নিয়ে নেয়। এবং ট্রাকটি ও আমাকে নিয়ে কাস্টমস হাউজের মধ্যে আসে। পরে তারা একটা কাগজে আমার সই নিয়ে কাস্টমস কার্ড সিজ করে নিয়ে রাত ১২টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলে অবৈধ পণ্য আনার অপরাধে আমার নামে মামলা হবে বলে জানান তারা।'
সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, অপরাধ করবে ভারতীয় ট্রাক চালক আর তার দোষ পড়বে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফদের ওপর! এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না। যে কারণে প্রতিবাদমুখর হয় সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা। এতে করে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় প্রবেশের অপেক্ষায় বন্দরের দুই পারে শত শত ট্রাক পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকলকারখানার কাচামালসহ খাদ্য সামগ্রী ছিল।
পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় প্রায় ছয় ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পণ্য খালাস ও আমদানি-রফতানি সচল হয়।
বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, কাস্টমস কতৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। এবং ভুক্তভোগী আক্তারুজ্জামান আক্তারের কাস্টমস কার্ড ফিরিয়ে দিয়েছেন ও তার নামে কোনো মামলা হবে না বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার  (এডি) ডা. নিয়ামুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। পরে  ভারতীয় আমদানি ট্রাকে কোনো প্রকার অবৈধ পণ্য পাওয়া গেলে সেটার দায়ভার সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ দায়ী থাকবে না। এবং চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস সদস্যদের আরো নিরাপত্তা জোর দার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে পরবর্তীতে এধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।

আরও পড়ুন