সমাজ সংস্কারে নিবেদিতপ্রাণ কুষ্টিয়ার সম্পা মাহমুদ

আপডেট: 12:19:31 08/03/2021



img
img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ছোটবেলায় হারিয়েছেন মা-বাবাকে, বিয়ের তিনবছর পর সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন স্বামী। কিন্তু কোনো প্রতিকূল অবস্থা দমাতে পারেনি তাকে। বলছি, সংগ্রামী নারী কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান এম সম্পা মাহমুদের কথা। নানা ঘাত প্রতিঘাতের পরেও সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি নারী উন্নয়ন ও সমাজ সংস্কারে কাজ করে চলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজখরচে এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য স্কুল। পেয়েছেন স্বীকৃতিও। কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে বেগম রোকেয়া পদক পান তিনি।
হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ। জন্মের নয় মাস পর তিনি হারান বাবাকে, ৯ বছর বয়সে মা। এরপর ভাইয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা। ১৯৯৭ সালে বিয়ে হয় হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর সাথে। বিয়ের পর তাদের একটি ছেলেসন্তান হয়। ২০০০ সালে বিয়ের ৩ বছর পর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন স্বামী। এতো ঘাত-প্রতিঘাতের পরেও দমে যাননি তিনি। চেয়ারম্যন পরিবারে জন্ম শম্পা মাহমুদের। বাবা ও বড়ভাই ছিলেন চেয়ারম্যান; সেই কারণেই ছোটবেলা থেকেই সাধারণ মানুষের প্রতি তার একটা আলাদা ভালবাসা ছিল। এরপর বিয়ে হয় সাচ্চু চেয়ারম্যানের সাথে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পরে একমাত্র সন্তানকে বুকে নিয়ে এলাকার গরিব- দুখী, অসহায়, নির্যাতিত ও বিধবা নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু। এরপর ২০১৬ সালে এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যন পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন সম্পা মাহমুদ। নির্বাচনে ৭ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রয়াত স্বামীর আপন বড়ভাইকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মূলত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি নারী উন্নয়ন ও সমাজ সংস্কারে নিরলস কাজ করে চলেছেন।
না চাইলেও নিরন্তর ছুটে চলা এই নারী পেয়েছেন সরকারি স্বীকৃতিও। ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে রানার আপ জয়িতা হিসেবে বেগম রোকেয়া পদক পান তিনি। কোনো চাওয়া- পাওয়া নেই, প্রয়াত স্বামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাকি জীবনটা সমাজের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহায় নারীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান: এমনই সম্পার বক্তব্য।
২০১৫ সালে প্রতিবন্ধী ২০ শিক্ষার্থী নিয়ে নিজখরচে এলাকায় গড়ে তোলেন স্বামী শহীদ মাহমুদ হোসেন সাচ্চু অটিজম প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।
এই কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক লিংকন আহমেদ জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ১২জন শিক্ষকসহ মোট ২৫জন বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছায় সেবা প্রদান করে চলেছেন। স্কুলটি জাতীয়করণের দাবি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার মর্জিনা খাতুন বলেন, সম্পা মাহমুদ নিজেও একজন অসহায় নারী।তারপরও সমাজের   নির্যাতিত নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন- সেকারণে তাকে জয়িতা মনোনীত করা হয়।

আরও পড়ুন