সময় শেষ, কেশবপুরে তবু চলছে অবৈধ ভাটাগুলো

আপডেট: 10:28:27 10/02/2020



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে মালিকরা তাদের অবৈধ ভাটায় ইট উৎপাদনসহ নতুন নতুন ভাটা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ২ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইটভাটা মালিকদের কাগজপত্র নিয়ে তার দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় ১৫টি ভাটার মধ্যে মাত্র তিনজন মালিক বৈধ কাগজপত্র জমা দেন। বাকি ভাটা মালিকরা এক মাসের সময় নেন। এসময়ের মধ্যে শুধুমাত্র ‘গাজী ব্রিকস’ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
গত ২ জানুয়ারি নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু এই সময়কালে আর কোনো ভাটা মালিক কাগজপত্র জমা দেননি বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
অপরদিকে, যে সব কৃষক অবৈধ ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ভাটা মালিকরা তাদেরকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে থানায় অভিযোগ ও সন্ত্রাসী-মাস্তান দিয়ে হয়রানি করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নীতিমালা উপেক্ষা করে কেশবপুরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ১৫টি ইটভাটা। এসব ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, নষ্ট করা হচ্ছে কৃষি জমি, উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এতে ফসলহানিসহ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এরমধ্যে সাতাবাড়িয়া গ্রামের রহমান ব্রিকস ও আলম ব্রিকস এবং দোরমুটিয়া গ্রামের কেশবপুর ব্রিকস পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আর গাজী ব্রিকস উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য ১১টি ভাটার বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রায় ৩০০ বিঘা কৃষিজমিতে এসব ভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শস্য নীবিড়তা কমার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
উপজেলার বায়সা কালিবাড়ি মোড়ে ৮-১০ বছর আগে প্রায় ২৫ বিঘা কৃষিজমি দখল করে গড়ে উঠেছে ‘গোল্ড ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা। যেখানে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এ ভাটা মালিক কৃষকের জমি দখল করে স্তূপ করে রেখেছেন কাঠ ও ইট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশের মণিরামপুর উপজেলায় ‘গোল্ড ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা আছে। সেটির কাগজপত্র দিয়ে কেশবপুরের এই ভাটা চালানো হচ্ছে।
এদিকে, পৌর এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম না থাকলেও শহরের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ১৫-১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে চলছে ‘খান ব্রিকস’ নামে একটি ভাটা। গত দুই বছর ধরে শহরের ভোগতীনরেন্দ্রপুর এলাকায় তিন ফসলি জমি দখল করে ‘জামান ব্রিকস’ নামে আরেকটি ইটভাটা স্থাপনের কাজ চলছে। ৪-৫ বছর আগে উপজেলার বেগমপুর গ্রামের দুই ফসলি জমি জবরদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘রিপন ব্রিকস’।
দুই বছর ধরে সাতবাড়িয়া বাজারের ১০০ গজ দূরে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার তিন ফসলি কৃষি জমি দখল করে ‘সুপার ব্রিকস’ নামে একটি ভাটা স্থাপনার কাজ চলছে। আগরহাটি গ্রামে কাগজপত্র ছাড়াই চলছে ‘প্রাইম ব্রিকস’। এছাড়া সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বিবি ব্রিকস-১ ও বিবি ব্রিকস-২ নামে দুটি ইট ভাটায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এভাটা তিনটি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে বছরের পর বছর ইট উৎপাদন ও বিক্রি করে চলেছে। এছাড়া রিপন ব্রিকসের মালিক উপজেলার বারুইহাটি মোড়ে শত শত ফলদ বৃক্ষ নিধন করে ‘রোমান ব্রিকস’ নামে আরো একটি ভাটা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাটা মালিকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে এনে ইট তৈরির জন্যে ঢিঁবি করে রেখেছেন এসব ভাটায়।
এভাবে একের পর এক অবৈধ ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন এলাকার কৃষকরা। তারা প্রায়ই কেশবপুর শহরে ভাটার বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন করছেন।
এই সব ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত ভাটা মালিক তাদের বৈধ কাগজপত্র জমা দেননি তাদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনিই প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অবৈধ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন