সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক

আপডেট: 08:45:54 13/01/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের সুবলকাঠি গ্রামের কৃষক প্রাণকৃষ্ণ (৮৬)। ধান চাষ করেন বহুআগ থেকে। এবারো চার বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের নামে বরাদ্দের এক টন ধান বিক্রি করতে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলা খাদ্যগুদামে এসেছিলেন তিনি। এইবারই প্রথম সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন এই বৃদ্ধ কৃষক। আর সেটাও সম্ভব হয়েছে সরাসরি লটারির মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কারণে। ন্যায্য দামে ধান বেচতে পেরে খুশি এই বৃদ্ধ।
কথা হয় প্রাণকৃষ্ণর সঙ্গে। হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলেন, ‘এবার ধান করতি যাইয়ে খরচ হইছে মেলা। বাজারে ধানের দাম নেই, মাত্র ৬০০ টাকা মণ। ধান নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। লোকমুখে জানতি পারি, আমি এক টন ধান দিতি পারবো। পরে অফিসে আইসে খোঁজ নিয়ে দেখি ঘটনা সত্যি। আজকে সেই ধান বেচতি আইছি। এক হাজার ৪০ টাকা কইরে ২৫ মণ ধান বেচলাম।’
প্রাণকৃষ্ণ বলেন, ‘ধানতো করি অনেকদিন থেকে। আগে কোনোদিন সরকারের কাছে ধান বেচতি পারিনি। এবার ধান বেচতি পাইরে আমি খুশি।’
প্রাণকৃষ্ণের মতো সোমবার মণিরামপুর খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন ঢাকুরিয়া গ্রামের নাজমুল হোসেন, রোহিতার মতিয়ার, রবিউল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, খেদাপাড়ার কানাইলাল, সুবল পালসহ অনেকে। এরা সবাই উচ্চ দামে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি।
এদের মধ্যে কানাইলাল ও সুবল পাল রোববার গুদামে ধান দিয়েছেন। আজ তারা ধান বিক্রির চেক হাতে পেয়েছেন বলে জানালেন।
এইবারই প্রথম মণিরামপুরে লটারির মাধ্যমে এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে দুই হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করছে সরকার। সেই লক্ষে ৪৫ হাজার কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে কৃষি অফিস। পরে লটারির মাধ্যমে দুই হাজার ১৫০ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়। ১২ ডিসেম্বর ক্রয় কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান। ২২ ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে ধান কেনা শুরু হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সংগ্রহ কাজ।
তবে, ধান কেনার শুরুতে হোঁচট খায় গুদাম কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি কৃষকদের অজানা থাকায় এবং তালিকায় স্থান পাওয়া অধিকাংশ কৃষকের গোলায় ধান না থাকায় কৃষকরা গুদামমুখি হননি। এর পরপরই গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে গুদামে ধান আনতে কৃষকদের আহ্বান করে গুদাম কর্তৃপক্ষ। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে পেয়ে কৃষকরা গুদামে ভিড় করতে থাকেন। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬৮ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান গুদামরক্ষক মনিরুজ্জামান মুন্না।
তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আবহাওয়া ভালো না থাকায় কৃষকরা গুদামে ধান আনতে পারেনি। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই অনেক কৃষক গুদামে ধান নিয়ে আসছেন। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৬৮ টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন হোসেন খান বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছি। কোনো চক্রের কারণে এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে দেবো না। টাকার বিনিময়ে কৃষকদের কার্ড নিতে কেউ গেলে কৃষকরা আমাদের সেই তথ্য জানাতে পারেন। এছাড়া তাদের ধরে মণিরামপুর থানায় বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন