সাকিবের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল জুয়াড়ির

আপডেট: 01:36:05 30/10/2019



img

রায়হান মাসুদ : সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো যোগাযোগ করেন দিপাক আগারওয়াল নামের একজন বুকি।
মূলত তার সঙ্গে হওয়া সকল যোগাযোগ আইসিসির কাছে দাখিল না করার দায়েই বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাকিব আল-হাসানের শাস্তি সংক্রান্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশি অল-রাউন্ডারের অপরাধের ধরণ এবং ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করে।
বিবৃতিতে আইসিসি বলছে, ২০১৭ সালে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুয়াড়ি মি. আগারওয়াল যখন যোগাযোগ করেন তার আগেই সাকিব জানতেন যে আগারওয়ালের কাছে তার ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।
সেবার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধও করেন মি. আগারওয়াল।
এছাড়াও তিনি সাকিব আল হাসানের কাছে আরো কিছু ক্রিকেটারের ফোন নম্বর জানতে চান।
এরপর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের বিষয়েও দিপাক আগারওয়াল ও সাকিবের মধ্যে আবারো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হয়।
২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি একটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য মি. আগারওয়াল সাকিব আল হাসানকে অভিনন্দন জানান।
এরপর আরেকটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সাকিবকে প্রশ্ন করেন, "আমরা কি কাজ করছি? নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো?"
"কাজ" বলতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে যে, সাকিবের কাছে দলের ভেতরের তথ্য জানতে চেয়েছেন আগারওয়াল।
এরপর সাকিবকে আরো একটি বার্তা পাঠান আগারওয়াল। বার্তাটি এরকম : "ভাই, এই সিরিজে কোনো কিছু আছে?"
সাকিব আল হাসানের প্রধান অপরাধ এসব তথ্য তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে রিপোর্ট করেননি।
২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সাকিব আল হাসান হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের হয়ে মাঠে নামেন, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে।
সেসময় সাকিবের কাছে 'নির্দিষ্ট' কোনো ক্রিকেটার খেলছেন কিনা সেটা জানতে চান আগারওয়াল।
বুকি দিপাক আগারওয়াল এরপর বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট ও ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত সম্পর্কে জানতে চান সাকিবের কাছে।
সাকিব এসবের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, "আগে আমার সাথে দেখা করেন।"
২৬ এপ্রিল আরো কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা মুছে ফেলা হয়েছিল। সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে বলেছেন যে, এসব বার্তায় তার কাছে কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল।
আগারওয়ালকে আইসিসির কাছে 'সন্দেহজনক' বলে উল্লেখ করেন সাকিব আল হাসান।
সংস্থাটিকে দেওয়া সাকিবের সাক্ষাৎকারে এটা নিশ্চিত করে যে তিনি এসব প্রস্তাবের কোনোটিতেই সায় দেননি।
তবে সাকিব কোনো এসব প্রস্তাবের কথা আইসিসির কাছে প্রকাশ করেননি?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে যে, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
সাকিবকে তিনবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কোনোবারই সাকিব সেকথা আইসিসিকে জানাননি।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিব আল হাসানের সাক্ষাৎকার নেয় আইসিসি।
সূত্র : বিবিসি