সাতক্ষীরায় প্রথম জীবন বিমার আওতায় গরু

আপডেট: 07:56:25 19/07/2021



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা): তালা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গরুর জীবন বিমা করা শুরু হয়েছে। দেশের মধ্যে প্রথম গবাদিপশুর জীবন বিমা পলিসি প্রদানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুগ্ধ খামারিদের আর্থিক ঝুঁকি গ্রহণ।
পাইলট প্রজেক্টের আওতায় গরুর মোট মূল্য ধার্য করে মালিকরা নির্ধারিত বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা দিয়ে গরুর জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করতে পারবেন। উপজেলার খলিষখালী, ইসলামকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নের খামারিরা এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া সাতক্ষীরা সদরের তিনটি ইউনিয়নের খামারিরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ ডেইরি লিমিটেড এবং ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১ জুন থেকে। ‘ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রডাকশন ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন’ নামে এই প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসিডিআই/ভোকা (যুক্তরাষ্ট্র)।
এ বিষয়ে এসিডিআই ও ভোকার মাঠ সমন্বয়কারী ডা. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম সাতক্ষীরার দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বিমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে শুধু তালা উপজেলার খলিষখালী, ইসলামকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়ন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাভা, ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের খামারিরা এই সুবিধা পাবেন। পরে অন্য উপজেলা ও জেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। চলতি মাসে পাইলট প্রজেক্ট শেষ হচ্ছে। খুব দ্রুত দ্বিতীয় ফেজে কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ৫০০ জন খামারিকে টার্গেট করা হলেও করোনা মহামারির কারণে এবার ৩৩৯ জনের ৩৫০টি গরু এই বিমার আওতায় এসেছে। খুরা রোগসহ বিভিন্ন কারণে গরুর আকস্মিক মত্যু হলে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বিমাকারী গরুর আর্থিক দায়ভার বহন করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে গরুর ৯০ শতাংশ মূল্য খামারিকে পরিশোধ করবে।
তালার খলিলনগর ইউনিয়নের সুবিধাভোগী খামারি সিরাজুল ইসলাম জানান, গরুর জন্য তিনি এক লাখ টাকার একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন। গরুর বিশেষ কিছু অসুখ হলে চিকিৎসা খরচ দেবে বিমা কোম্পানি। আর মৃত্যু হলে গরুর দামের হিসেবে প্রতি লাখে ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হবে মালিককে। এটি চালু হলে সব খামারির উপকার হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
সাতক্ষীরা প্রাণ চিলিং সেন্টারের ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, খামারিদের বিমা করতে গরু প্রতি যে টাকা খরচ হচ্ছে তার ওপর প্রাণ চিলিং ৪০ শতাংশ টাকা ভর্তুকির মাধ্যমে সহযোগিতা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩২৬ জন খামারির ৩৪৯টি গরুর বিমা করতে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আগামীতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অন্য খামারিরা এই সুবিধা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, গবাদি পশুর নিরাপত্তায় প্রাণ ডেইরি লিমিটেড এবং ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার খলিষখালী, ইসলামকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নে এই প্রথম বিমা চালু হয়েছে। এতে খামারিদের উপকার হবে বলে তিনি মনে করেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গবাদি পশুর নিরাপত্তায় দেশে এই প্রথম বিমা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রমটি পুরোপুরি চালু হলে জেলার খামারিরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন খামার গড়ে উঠবে।’

আরও পড়ুন