সাতক্ষীরায় পড়ে আছে পিসিআর ল্যাবের যন্ত্রপাতি

আপডেট: 07:28:08 20/11/2020



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ল্যাব স্থাপনের যন্ত্রপাতি আনা হলেও শুরু করা হচ্ছে না করোনাভাইরাস পরীক্ষার কাজ। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্ত্রপাতিগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি যন্ত্রপাতি পেলেও অর্থ বরাদ্দসহ নানা জটিলতায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা এবং মানিকগঞ্জ জেলার জন্য দুটি পিসিআর ল্যাবের সরঞ্জাম হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মানিকগঞ্জ জেলা একমাসের মধ্যে তাদের ল্যাব চালু করেছে এবং সেখানে নিয়মিত করোনাভাইরাস পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।
করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে করোনাভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা নাগরিক কমিটিসহ নাগরিক সমাজের নেতারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে তৎপরও হন। একপর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের সরঞ্জাম প্রদান করতে সম্মত হয়। এবং গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা এবং মানিকগঞ্জ জেলার জন্য দুটি পিসিআর ল্যাব হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন এসে পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। এসময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরা  জেলা যদি পিসিআর ল্যাব বসাতে না পারে তবে সেটি অন্য জেলায় বরাদ্দ দেওয়া ভালো। মেডিকেল কলেজের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।  
এদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার শুরুতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এখানে ১২শ’ করোনা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে করোনা পজেটিভ ১৬ এবং সন্দেহভাজন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ জেলায় করোনা পরীক্ষার একটি ল্যাব খুবই জরুরি। কিন্তু ল্যাব স্থাপন হচ্ছে শোনা গেলেও তা বাস্তবায়ন হবে কবে তা জানা নেই।’
সাতক্ষীরা জেলা করোনা সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ১৪টি মেডিকেল কলেজে আরটিপিসিআর ল্যাব বরাদ্দ হয়। এরমধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মেশিন এলেও অর্থ বরাদ্দসহ নানা জটিলতায় কার্যক্রম শুরু হয়নি।’
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আসন্ন শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। সেই বিবেচনায় পিসিআর ল্যাব বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা আইইডিসিআর থেকে সেটি সংগ্রহ করেছি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের চারটি রুমও বরাদ্দ করা হয়েছে ল্যাব স্থাপনের জন্য। এ কাজে অর্থ বরাদ্দ না থাকলেও অন্য খাত থেকে অর্থ এনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর কাজ শেষ করলে আমরা শিগগির পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারবো।’
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, খুলনার সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) মো. আসাদুল্যাহ জানান, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেটা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ফাইলটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে মূল্যায়নসহ আরো কিছু প্রক্রিয়া  শেষে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
তিনি আরো জানান, দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে আরো একমাস সময় লাগতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিম বলেন, ‘জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে পিসিআর ল্যাব পেলেও কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণে আজও স্থাপন করা হয়নি। এটা সাতক্ষীরা জেলার ২৫ লাখ মানুষের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘একই দিনে মানিকগঞ্জ জেলা পিসিআর ল্যাব গ্রহণ করে এবং তারা একমাসের মধ্যে সেটি স্থাপন করেছে। প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার কাজ হচ্ছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কেন পারছে না সেটি উদ্বেগের বিষয়। কর্তৃপক্ষ এই শীতেও ল্যাব স্থাপন করতে পারবে কি-না সন্দেহ রয়েছে।' এজন্য তিনি জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও পড়ুন