সাতক্ষীরা উপকূল লণ্ডভণ্ড

আপডেট: 03:58:49 10/11/2019



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূল এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও কাশিমাড়িসহ আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা এলাকার অধিকাংশ কাঁচাঘর নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টিন-এলবেস্টার, পানিতে একাকার হয়ে গেছে মাছের ঘের-ধানের ক্ষেত। রাস্তায় গাছ পড়ে থাকায় উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
ঝড়ের সময় শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম (৬০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ভেটখালী ইউনিয়নের তারানিপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে ভ্যানচালক পলাশ ও তার স্ত্রী আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এ খবর সরকারি কোনো সূত্র নিশ্চিত করেনি।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূল হয়ে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল রোববার ভোর পাঁচটায় ৮১ কিলোমিটার বেগে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে।  পরে তা মংলার কাছ দিয়ে সমুদ্র উপকূল হয়ে পুবের দিকে চলে যায়। সকাল নয়টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এখনো পর্যন্ত জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান, এক হাজার ২০০ হেক্টর সবজি, ৫০০ হেক্টর সর্ষে, ২০০ হেক্টর কুল ও ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের চার হাজার ঘর ভেঙে গেছে। মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। মানুষ এখনো সাইক্লোন শেল্টারে, নিরাপদে আছে।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমার ইউনিয়ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বাতাসের তীব্রতা এতো ছিলে যে, এখানকার অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। কাঁচাঘর সব নষ্ট হয়ে গেছে, ঘরের টিন ও এলবেস্টার উড়ে গেছে। চিৎড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে একাকার হয়ে গেছে। নদীতে পানি বাড়ছে। আমার এলাকার কিছু বেঁড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ আছে। সেগুলো সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করছি। জোয়ারে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাস্তার গাছ সরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।’
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল রোববার ভোরে সাতক্ষীরা উপকূলের আঘাত হানে। এতে উপক‚লীয় এলাকার অধিকাংশ কাঁচা ঘর নষ্ট হয়েছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘের ও ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়া মাত্র উদ্ধার কাজে নামা হবে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাস্তার ওপর বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। শ্যামনগরের খানপুর, চণ্ডিপুর, শ্যামনগর সদর, উত্তর বাঁধঘাটা, ইসমাইলপুর, হাইবাতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তার-ঘাটে পড়ে থাকা গাছ অপসারণের কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন