নানা সমস্যায় সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল

আপডেট: 01:30:31 24/01/2021



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : জাতীয় অধ্যাপক ডা. এমআর খান প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল চলছে শম্বুক গতিতে। পর্যাপ্ত লোকবল, সরঞ্জাম এবং সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শিশু চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। নির্মিত হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ। কিন্তু এ  জেলার শিশুদের চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালটি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ডা. এমআর খান নিজ জেলার শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সঠিক তদারকি এবং সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে হাসপাতালটিতে শিশু চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালটির পরিবেশও যথেষ্ট নোংরা হওয়ায় অনেক সময় শিশুদের সাথে আসা অভিভাবকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভবনে কোথাও কোথাও ফাটল ও দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটি ৩০টি বেড নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে ৫০টি বেড রয়েছে। তবে প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। এক্ষেত্রে যাদের বাড়ি কাছাকাছি তাদের ভর্তি রাখার মতো হলেও বেড সংকটের কারণে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যে কারণে ৫০টি  বেড থাকলেও ৭০ জনের মতো রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। বিশেষ করে প্যাথলজি ল্যাবটি খুবই পুরাতন। অটো অ্যানালাইজার সার্ভিস ভালো নেই, ফটোথেরাপি, আধুনিক কিউবেটর, ভেইন ফাইন্ডার, খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। যে বেডগুলো রয়েছে তার অবস্থাও খুবই খারাপ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী ডা. আবুল বাসার আরমান বলেন, শিশু চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশেষ করে শীত মৌসুমে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে এখানে  রোগীদের চাপ বাড়ে। প্রয়োজনীয় লোকবল, আধুনিক সরঞ্জামাদি না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। গত বছরের তুলনায় এবছর চাপ অনেক বেশি। শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তবে এবার ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ বলেন, শীত মৌসুমে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে এখানে রোগীর চাপ বাড়ে। কিন্তু সে তুলনায় হাসপাতালটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। জাতীয় অধ্যাপক প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে দ্রুত উন্নয়ন করার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির (সিলেকশনে) সাধারণ সম্পাদক জামান খান বলেন, লাল ফিতায় আটকা পড়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির এখন নাজুক অবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির যেন কোনো বরাদ্দ নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সুনজর না থাকায় সাতক্ষীরার একমাত্র শিশু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওসমান গনি বলেন, সাতক্ষীরায় শিশুদের চিকিৎসায় এটি একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং লোকবল না থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালটিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে আধুনিকায়ন করার দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, এখানে আসলে কোনো বরাদ্দ নেই। তারা নিজেরা আয় করে নিজেরাই চলে। তারপরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

আরও পড়ুন