সাতদিনেই উঠে গেল সড়কের পিচ

আপডেট: 05:19:40 21/09/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : নির্মাণের মাত্র সাত দিনের মাথায় উঠে গেছে রাস্তার পিচ। ২২ কিলোমিটার রাস্তার মাত্র তিন কিলোমিটার শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে তা উঠে গেছে। এছাড়া অনেক স্থানে ফেটে গেছে।
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করায় এমনটি হয়েছে বলছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। যদিও ঠিকাদারের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে অল্প কিছু অংশে রাস্তার কাজ করার কারণে এমন হয়েছে। রাস্তা তৈরির তিন বছরের মধ্যে কোনো ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা ঠিক করে দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন ঠিকাদার।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলো পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তা মজবুতিসহ ওয়ারিংয়ের কাজ চলছে তিন বছর ধরে। এক সপ্তাহ আগে কালীগঞ্জ নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকাকরণের জন্য কার্পেটিং বা বিচিকরণের কাজ শুরু করে। চার থেকে পাঁচ দিনে তিন কিলোমিটর কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে রাস্তার পিচ উঠে গেছে। কোথাও বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে তা সম্পূর্ণ উঠে যাবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরা।
এই রাস্তার কাজটি পেয়েছে খুলনার মুজাহার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯ কোটি টাকা। কিন্তু হাতবদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম মিয়া। টেন্ডার শেষে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ শুরু হয় তিন বছর আগে। রাস্তা খোড়া এবং ইট-বালির কাজ শেষ হয়েছে ছয় মাস আগে। এরপর সম্প্রতি শুরু হয় কার্পেটিংয়ের কাজ।
সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে শিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনঃমেরামত করতে বাধ্য থাকবে। বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে রাস্তার সমস্যা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হলে আগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সারাই করা হবে।
এদিকে, ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম মিয়া রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, ‘যেখানে রাস্তার পিচ যাচ্ছে, সেখানে টিউবওয়েলের পানি যায়। যে কারণে এমনটি হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে কাজ করায় ৩০০ মিটার মতো রাস্তায় সমস্যা হয়েছে। আমি লোক পাঠিয়েছি। সেখানকার কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তা পুনরায় করা হবে।’
ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দারের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন