সুপার সাইক্লোন সিডর বিধ্বস্ত করে উপকূলীয় জনপদ

আপডেট: 01:28:34 15/11/2016



img

জিয়াউস সাদাত, আব্দুস সামাদ, সামিউল মনির ও এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ : আজ সেই ভয়াল ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিন সুপার সাইক্লোন সিডর আর পাহাড়সম উঁচু জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছিল দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদ।
বিভীষিকাময় সেই রাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন হাজারো মানুষ। গবাদি পশু মারা পড়েছিল অগুণতি। বাড়িঘর, মাঠের ফসল, পুকুর বা ঘেরের মাছ ভেসে গিয়েছিল জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের রক্ষাকবচ সুন্দরবন বুক দিয়ে ঠেকিয়েছিল ভয়াবহ তাণ্ডব। সুন্দরবনের কোটি গাছ ভেঙে পড়ে মাটিতে। মারা পড়ে বাঘ-হরিণ-বানরসহ হাজারো বন্য পশু।
সিডরের সেই ভয়ানক চিত্র দেখে আজো উপকূলের মানুষ ঘুমের ঘোরে শিউরে ওঠেন। খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে।
ভয়াবহ সাইক্লোনের ধাক্কা আজো কাটিয়ে উঠতে পারেনি উপকূলবাসী। কান পাতলে এখনো ঘরে ঘরে হাহাকার শোনা যায়। সরকারি-বেসরকারি সাহায্য-সহযোগিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো আজো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্ত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন লাখো মানুষ।
সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয় সুন্দরবন থেকে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা ও নোয়াখালী উপকূলের বিশাল এলাকায়। বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, বরগুনা ও বরিশালের কয়েকটি উপজেলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, পিরোজপুরের জিয়ানগর, খুলনার দাকোপের কালাবগি ও সুতারখালী ইউনিয়ন ও কয়রা উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী গ্রাম।
সেটি ছিল ২৪০ কিলোমিটার গতির ঘূর্ণিঝড়। অন্যূন ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস। সরকারি মতে, সিডর কেড়ে নেয় তিন হাজার ৩০০ লোকের প্রাণ। কিন্তু রেডক্রসের মতে মৃত্যের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। ৫৫ হাজার মানুষ আহত হন। ৮৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হন। সিডরে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এক হাজার ৮১১টি ইউনিয়ন। উপকূলীয় ৩১টি জেলার ২১০টি উপজেলার ২০ লাখ একর জমির ফসল নষ্ট হয়। সাড়ে ১২ লাখ গবাদি পশু মারা যায়। দশ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ কোটি ডলার বা সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।
সিডরের তিন সপ্তাহ পরও খুঁজে পাওয়া যায় অনেকের লাশ। সরকারি হিসেবে সিডরে বাগেরহাট জেলায় নিহত হন ৯০৮ জন, আহত হন ১১ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে বলেশ্বর নদী তীরবর্তী সাউথখালী ইউনিয়নেরই প্রায় ৭০০ মানুষ মারা যান। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় ৬৩ হাজার ৬০০ বাড়িঘর। আংশিকভাবে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা এক লাখ ছয় হাজার। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় পাকা পাঁচ কিলোমিটার এবং কাঁচা প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা। সাড়ে ১৬ কিলোমিটার বাঁধ, ২০৬টি স্কুল ও মাদরাসা, পাঁচটি কলেজ, চার হাজার ৭৬৯টি নৌকা ও ট্রলার ধ্বংস হয়। মারা পড়ে ১৭ হাজার ৪২৩টি গবাদি পশু। বিনষ্ট হয় ১২ হাজার হেক্টর ক্ষেতের ফসল ও আট হাজার ৮৮৯ হেক্টর চিংড়ি ঘের। খুলনায় সিডরের আঘাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া সুন্দরবনের ক্ষতি হয় দুই হাজার কোটি টাকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী সিডরের আঘাতে বরগুনায় এক হাজার ৫০১ জন প্রাণ হারান। গৃহহীন হয়ে পড়ে জেলার ৮৯ হাজার ৭৮৫টি পরিবার।

ফ্লাশ ব্যাক
২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী নিম্নচাপের কারণে সমগ্র দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় কয়েকদিন ধরে বিরাজ করে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। অবিরাম ভারী বর্ষণ আর দমকা হাওয়ায় ছিল আসন্ন প্রলয়ের ইঙ্গিত বার্তা। নিম্নচাপটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে ভয়ংকর হয়ে উঠতে থাকে। ধাবিত হতে থাকে উপকূলের দিকে। প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। ক্রমে তা বাড়তে থাকে। বিকেল থেকে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকে। মাঝে মধ্যে তা দমকা হাওয়ায় রূপ নেয়। উপকূলীয় জেলাগুলোর জনজীবন একেবারে অচল হয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বৃহত্তর খুলনার সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা সমুদ্র উপকূলে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর এবং অন্যান্য চরগুলোতে অবস্থান করা জেলেরা রয়ে যান চরম দুর্যোগের মধ্যে অসহায় অবস্থায়। ইতিমধ্যে সাগর ও সুন্দরবন উপকূল থেকে মাঝি-মাল্লা ও জেলেরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে শুরু করে। সমুদ্রবন্দর মংলাকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।
১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘণ্টায় ২১০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন সামুদ্রিক গোর্কি সুপার সাইক্লোন সিডরের মূলকেন্দ্রটি (আই) প্রথম আঘাতহানে বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলায়। সঙ্গে দশ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু। সুন্দরবন, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা ও নোয়াখালী উপকূলের বিশাল জনপদে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লণ্ডভণ্ড করে গভীর রাতে দুর্বল হয়ে সিলেটের আকাশ দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে সাইক্লোনটি। নিহত, আহত ও নিখোঁজ হন হাজার-হাজার মানুষ। কয়েক লাখ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় দশ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। গৃহহীন এসব দুর্গত মানুষের ঠিকানা হয় খোলা আকাশের নিচে ও সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে। এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।
পরদিন ছিল শুক্রবার দেখা যায় গোটা উপকূল লণ্ডভণ্ড। গাছপালা সব উপড়ে পড়েছে। ঘরবাড়ির চিহ্ন নেই। চারিদিকে পানি আর পানি। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে রয়েছে হতভাগ্য মানুষের লাশ। পানিতে ভাসছে শিশু, নারী, পুরুষের লাশ। একই সাথে ছড়িয়ে রয়েছে গবাদি পশুর মৃতদেহ। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ঘরবাড়ির ভগ্নাংশ। মানুষ ছুটছে তাদের স্বজনদের খোঁজে। প্রিয়জন হারিয়ে চলছে শোকের মাতম, হাহাকার।
সকালে সাইক্লোন শেল্টারগুলো থেকে মানুষ নেমে আসেন। খুঁজে ফেরেন তাদের বাড়িঘর। কিন্তু কোথাও ঘর বাড়ির চিহ্ন নেই। কে বলবে এ সব এলাকায় একদিন আগেও জনবসতি ছিল! দুবলার চর, ডিমের চর, শ্যাওলা বুনিয়ার চর, আলোরকোলসহ অন্যান্য চরগুলোতে ঘরবাড়ি বা মানুষের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েকশ’ ট্রলার ও মাছ ধরা নৌকা মাঝি-মাল্লাসহ ডুবে যায়। অনেক জেলে মাঝি কোনো রকমে সাঁতরে কুলে উঠতে পারলেও বেশিরভাগেরই সলির সমাধি ঘটে। কোনো কোনো ট্রলার ও নৌকা জলোচ্ছ্বাসে চরে উঠে পড়ে।
সুন্দরবনের পরিচিত চিত্র একেবারে পাল্টে যায়। বাঘ, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্য জীবজন্তুর মৃতদেহ যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। সিডর যে কতটা প্রলয়ংকারী রূপ ধারণ করেছিল তা বোঝা যায় সুন্দরবনে শত শত গাছ উপড়ে পড়ে থাকতে দেখে। জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পুকুর, মাছে ঘের, খাল বিল নদী সব একাকার হয়ে যায়। খাবার ও পানির জন্য মানুষ হাহাকার করতে থাকে। তখনো ত্রাণ এসে পৌঁছায়নি। শিশু ও বৃদ্ধদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, খাবার নেই, চলার পথও নেই। স্বজনদের খোঁজ নেই। সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বিরাজ করতে থাকে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। সরকার এদিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্গত এলাকার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেন।
প্রতি ঘণ্টায় বাড়তে থাকে লাশের সংখ্যা। চারিদিকে খালে-বিলে, ধানক্ষেতে পাওয়া যাচ্ছিল লাশ আর লাশ। লাশ পচা দুর্গন্ধে এলাকার আবহাওয়া হয়ে ওছে দুর্বিষহ। দাফন করার কোনো বস্ত্রও মিলছে না। জানাজাও হচ্ছে না। উপকূল এলাকাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো যেন ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে। ত্রাণ পেতে হন্যে হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা। হেলিকপ্টার অথবা ট্রলারের শব্দ শুনলে তারা ছুটে যাচ্ছেন ত্রাণের আশায়। দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ নেই। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। দিনে কিছুটা ত্রাণ জুটলেও রাত কাটছে অনাহারে। শীত বস্ত্র নেই। সবচেয়ে বেশি দূরবস্থায় পড়ে শিশুরা।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
গত কয়েক বছরে সিডর-বিধস্ত এলাকার মানুষ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও দেশি-বিদেশি শত শত এনজিও আখের গুছিয়ে নিয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নাম করে দাতা সংস্থার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের নামে সরকারি বেসরকারি সংস্থা সঠিকভাবে কাজ না করে লোপাট ও আত্মসাৎ করেছে বরাদ্দ টাকার সিংহভাগ। সৌদি সরকার, মুসলিম এইড এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এনজিও যে গৃহনির্মাণ করেছে তা বাসযোগ্য নয়। উপকূলবাসী চান একটি টেকসই বেড়িবাঁধ। সরকারি-বেসরকারি যে সাহায্য সহযোগিতা এসেছে বলেশ্বরপারের মানুষের জন্য তা নিতান্ত কম নয়। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি গৃহ।
সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত বাগেরহাটে ৫২.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা-বগি আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর পর এই সড়কটি বর্তমান সরকারের সময়ে উন্নয়ন হওয়ায় জেলার কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা- তিনটি উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বাগেরহাট থেকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস পর্যন্ত এই সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় বর্তমানে পর্যটকদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক এই সড়কের কাজ করা হয়েছে। দেড় কিলোমিটারের সার্ভিসিং কাজ সপ্তাহখানেকের মধ্যে শেষ হবে। সাইবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০টি কালভার্ট ও তিনটি বেইলি ব্রিজ ও প্যানাসাইনিঙ্কের এক হাজার ৭৮০ মিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড় সিডর ভাসিয়ে নিয়েছিল ৮৫ লাখ পরিবারের ঘামে ভেজা স্বপ্ন। স্বপ্নের আবাস। চাতাল-চুলা, মাথার ওপর থাকা চালা। মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকেও ছাড়েনি সে। কোলহারা মায়ের চোখের নোনাজল তিন নদী জলকে করেছিল দ্বিগুণ। একজন-দুজন নয়, হাজারে হাজার প্রাণ নিঃশেষ করেও ক্ষান্ত হয়নি। কয়েক লাখ অবলা পশুও গিলে খেয়েছে ওই ঝড়। সব হারানো এসব মানুষ জীবন সংগ্রামে নয় বছর যুদ্ধ করে আজও টিকে আছেন। কিন্তু এখনো নির্মিত হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বেড়িবাঁধ। তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র বা সাইক্লোন শেল্টার। যেসব সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ হয়েছে তাও নিম্নমানের। জনসংখ্যা অনুসারে এগুলো অপর্যাপ্ত।
সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানার পর এই নয় বছরে সুন্দরবন প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সিডর বিধ্বস্ত জেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকা পরে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরেক ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে।

আরও পড়ুন