সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের এ কী অভিযোগ!

আপডেট: 01:53:26 18/05/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ছাত্রীদের প্রেম নিবেদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রধান শিক্ষক নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কয়েক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ভাষাও ব্যবহার করেন। স্কুল থেকে বিদায় নেওয়া শিক্ষার্থীদেরও তিনি এভাবে উত্ত্যক্ত করছেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করে।
এদিকে ছাত্রীদের সঙ্গে মেসেঞ্জারে আপত্তিকর কথাবার্তার কয়েকটি স্ক্রিনশট রোববার থেকে ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর থেকে প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। তারা সন্তানকে এরপরও ওই স্কুলে পাঠাতেও দ্বিধান্বিত।
তবে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী। তার দাবি, কিছুদিন ধরে তার ব্যবহৃত আইডিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র আইডি হ্যাক করে এসব কাজ করেছে।
যদিও তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের আনা অভিযোগ কয়েকমাস আগের।
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ক্লাসে ঢুকে ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন। আপত্তিকর ভঙ্গিতে সবার দিকে তাকান। আবার নিজের সঙ্গে ছাত্রীদের আইডি সংযুক্ত করে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। ছাত্রীরা কেউ ভয়ে-সংকোচে প্রতিবাদ করতে পারে না। সম্প্রতি এক ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বিদায় নিয়েছে। তাকেও শিক্ষক একই মাধ্যমে আপত্তিকর কথা বলেন। ওই ছাত্রী সহ্য না করতে পেরে তথ্য ফাঁস করেছে দিয়েছে।
ছাত্রীদের ভাষ্য, তারা যারাই শিক্ষকের আপত্তিকর কথার প্রতিবাদ করেছে, তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছেন তিনি। যখনই ইউএনও-কে জানানোর কথা বলা হয়েছে, তখন চুপ হয়ে যান শিক্ষক। পরে আবার অন্য ছাত্রীকে মেসেজ দেন।
নতুন ভর্তি হওয়া কোনো ছাত্রী যেন প্রধান শিক্ষকের কুদৃষ্টির শিকার না হয়, সেই জন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীদের এমন প্রতিবাদ বলে জানাচ্ছে অভিযোগকারীরা।
এরআগেও চলতি বছরের শুরুতে লিতুনজিরা নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী মেধাবী ছাত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে জোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিতর্কিত এই প্রধান হায়দার আলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা জেনেছি হেড স্যারের আইডিতে নাকি মাসখানেক ধরে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই তিনি রোববার (১৭ মে) পুরনো আইডি বøক করে নতুন আইডি খুলেছেন। আমাদের সেই আইডিতে রিকোয়েস্ট পাঠাতে বলেছেন।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, ‘কিছুদিন ধরে আমার আইডিটায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই সেটা বাদ দিয়ে নতুন আইডি খুলেছি। আমি সংস্কৃতিমনা মানুষ। ছাত্রীদের সাথে ভালো সম্পর্ক। এটা অনেকে সহ্য করতে পারেন না। তাই হয়তো আমার আইডি হ্যাক করে এসব কাণ্ড ঘটিয়েছে।’
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘ছাত্রীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শক্ত একটি তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন