সৌদিতে আরেক বাঙালি নারীর বাঁচার আকুতি

আপডেট: 03:33:06 25/11/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সৌদি আরবে নির্যাতিতা সুমির পর এবার ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন হুসনা আক্তার (২৪) নামে আরেক নারীকর্মী। ভিডিও বার্তায় তিনি তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দেশবাসীর সাহায্য চেয়েছেন।
তাতে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ১০-১২ দিন আগে তাকে ভালো কাজের কথা বলে সৌদি আরব পাঠানো হলেও সেখানে তার ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভিডিওটি বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হুসনা আক্তারের বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে।
ভিডিও বার্তায় হুসনা আক্তার বলেন, ‘আমি মোছা. হুসনা আক্তার। আমার দালালে ভালা কথা কইয়া-কামের কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদি। নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি।
আমি আইসা দেখি ভালা না। আমার সাথে ভালা ব্যবহার করে না ওরা। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে। আমি বাক্কা দিন (১০-১২ দিন) হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরো বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আর পারতাছি না। যেভাবে পারো আমারে তোমরা বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। অনেক অত্যাচার করতাছে। আমারে ভালা কামের (কাজের) কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পারো আমারে নেও।’
হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের হুসনা আক্তার আর্থিক সচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে ১৭ দিন আগে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্বামী শফিউল্লাকে ভিডিও বার্তা পাঠান।
হুসনার স্বামী ওই এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এবং হুসনা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শফিউল্লা কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করান।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, 'নির্যাতনের শিকার নারীর নাম ঠিকানা ও সৌদিতে কোন জায়গায় আছেন সেটা আমাকে জানাতে হবে। তখন আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো।'
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন