সৌম্যর বিয়েতে মোবাইল চুরি নিয়ে তুলকালাম

আপডেট: 11:53:23 27/02/2020



img
img

খুলনা অফিস : সানাইয়ের সুর, ঢোলের তাকধুম- এক উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙচঙে বাহারি পোশাক আর নানা রকমারি সজ্জা। এমন জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে গাঁটছড়া বাঁধছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার। এমন এক মোহনীয় ক্ষণে বুধবার রাত দশটার দিকে অভিজাত খুলনা ক্লাবে দুটো পরিবারের মিলনমেলার ভিড়ে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হট্টগোল।
ওই সময় সৌম্যর বাবা কিশোরীমোহন সরকার, বরযাত্রী শিল্পপতি দ্বীনবন্ধু মিত্র ও সৌম্যর বন্ধু অলিসহ স্বজনদের সাতটি মোবাইল চুরি হয়। এ সময় সৌম্যর মেজ ভাই ইনকাম ট্যাক্সের ডেপুটি কমিশনার প্রণবকুমার সরকার খুলনা ক্লাবের কর্মচারীদের মোবাইল চুরির বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি চোরদের ধরতেও উদ্যোগী হন। কিন্তু চোরের পক্ষ হয়ে ক্লাবের কয়েকজন কর্মচারী ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। প্রণব ও অলিদের ওপর ক্লাবের কর্মচারীরা দফায় দফায় হামলা চালান। এতে তারা আহত হন। প্রায় আধা ঘণ্টা থমকে যায় পুরো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তখন সাত পাকে ঘুরছিলেন বর। যে কারণে তিনি উঠে আসতে পারেননি।
সৌম্য সরকারের মামা স্বদেশকুমার সরকার বলেন, প্রচণ্ড ভিড়ে গেট থেকে ঢোকার সময় দ্বীনবন্ধু মিত্রের মোবাইল চুরি হয়ে যায়। এর পর সৌম্যর বাবা, বন্ধু অলিসহ বরযাত্রীদের সাতটি মোবাইল চুরি হয়। চোরদের হাতেনাতে ধরে ফেললে খুলনা ক্লাবের কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা করেন।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনাটি খুলনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রথমেই আমলে নিলে বরযাত্রী এসে সৌম্যের স্বজনদের মার খেতে হতো না। প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, চুরি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মোবাইল নাম্বারে ফোন দেন সৌম্যের স্বজনরা। তখন একজনের কাছে মোবাইল বেজে ওঠে। তাকে ধরেও ফেলা হয়। তার কাছে পাঁচটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ নিয়ে গণ্ডগোলোর সূত্রপাত হয়।
আক্ষেপ করে সৌম্যের এক স্বজন বলেন, 'তারকা এ ক্রিকেটারের বিয়েতে এ ধরনের ঘটনায় আমরা লজ্জিত, অপমানিত। সৌম্যর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সামনে এসে ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।'
এদিকে, ঘটনার পর খুলনা ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন লোকজন সৌম্যের অভিভাবকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন।
ঘটনার ব্যাপারে জানতে চা্ইলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে খুলনা ক্লাবের স্টাফ ও বরযাত্রীর লোকদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। সেখানে কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি, তবে ভিড়ের মধ্যে কারো গায়ে একটু ধাক্কা লাগতে পারে। দুই চোর থানায় আটক আছে। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
খুলনার মেয়ে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সঙ্গে খুলনা ক্লাবে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। বুধবার রাতে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন এই তারকা ক্রিকেটার। জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। পাঁচশ বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে আসেন সৌম্য।
প্রিয়ন্তি দেবনাথের বাবা গোপাল দেবনাথ ব্যবসায়ী এবং মা মাধবী দেবনাথ গৃহিণী। তাদের বাড়ি খুলনা শহরের টুটপাড়া এলাকায়। পূজা রাজধানীর একটি প্রতিষ্ঠানে ও লেভেলের ছাত্রী। তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।