স্বপ্ন পূরণ হবে কি গরিব মেধাবী মেয়েটির?

আপডেট: 03:39:56 02/07/2020



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : জরায়ু অপারেশনের পর থেকে শরীরটা ভালো যাচ্ছে না মা বাসন্তী গোলদারের। তবুও সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে স্বামী অসীম গোলদারের সঙ্গে দিনমজুরের কাজে বের হন তিনি। স্বামী-স্ত্রী মিলে অন্যের জমিতে কাজ করে যা পান, তা দিয়েই চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। সঙ্গে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ।
বাঘারপাড়া উপজেলার এগারখানের কমলাপুর গ্রামে বসবাস হতদরিদ্র এই দম্পতির। তাদের মেয়ে প্রভা গোলদার এবার উপজেলার বাকড়ি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সন্তানের এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে খুশি হলেও তাদের সামনে রয়েছে ঘোর অমানিশা। আদরের মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাতে ফিকে না হয় সেজন্য প্রাণান্ত চেষ্টা তাদের। কিন্তু কলেজে ভর্তিসহ লেখাপড়ার খরচ মেটানোর সাধ্য তো তাদের নেই!
প্রতিবেশী কলেজশিক্ষক সুদীপ গুপ্ত বলেন, ‘প্রভা জিপিএ-৫ পেলেও তার পরিবার রয়েছে স্বপ্নভঙ্গের আশংকায়। পরের জমিতে কাজ করে তার বাবা-মা এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন মেয়েকে। শুধু অর্থের কারণে শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটবে কিনা- তা নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত তার বাবা-মা।’
অসীম-বাসন্তি দম্পতি দিনমজুরের কাজ করে তিন ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। মাঠে সামান্য আবাদি জমি রয়েছে তাদের। তবে সেখান থেকে যে ফসল পাওয়া যায়, তা দিয়ে বছর ওঠে না। বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন তারা। এতো কষ্টের মধ্যেও তাদের বড় ছেলে অমিত গোলদার ২০১৬ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাশ করেছেন। তবে এখনো তার চাকরি মেলেনি। দু’-একটি টিউশনি করে বেঁচে থাকা আর চাকরি খোঁজার খরচ জোগাড় করেন তিনি।
দম্পতির ছোট ছেলে অন্তু গোলদার নড়াইলের তুলারামপুর কলেজে কারিগরি শাখায় উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। অন্তু মাঝে মাঝে বাবা-মায়ের সঙ্গে দিনমজুরি করে।
বাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীরণ শর্মা বলেন, ‘প্রভা মেধাবী শিক্ষার্থী। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক ছিল তার। প্রভার প্রতি আমাদের বিশেষ নজর ছিল। অনেক সময় পরীক্ষার ফি মওকুফ করেছি।’
মা বাসন্তী গোলদার এলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এ পর্যন্ত এসেছি। সন্তানদের লোখাপড়া শেখানোর জন্য কখনো নিজের জমি, কখনো অন্যের জমিতে কাজ করি। এখন ছোট মেয়েটাকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা।’
‘ভালো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে অনেক খরচ। অনেক বিষয়ে প্রাইভেট পড়ার দরকার হয়। ইউটেরাস অপারেশনের পর শরীরটাও সব সময় ভালো থাকে না। জানি না অর্থের কাছেই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নগুলো অধরাই থেকে যায় কি-না,’ বলেন এই সংগ্রামী নারী।
প্রভার বাবা অসীম গোলদার বলেন, ‘মেয়ের রেজাল্টে আমি গর্বিত। মনের জোর বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা আয় করার লক্ষ্য নিয়ে দিন শুরু করি। তাই একেক দিন দুইজনের জমিতেও দিনমজুরের কাজ করতে হয়। কিন্তু বয়সের কারণে জানি না শেষ পর্যন্ত পারবো কি-না। তবে শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে হলেও মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করবো।’
২০১৪ সালে পিএসসিতে জিপিএ-৫সহ বৃত্তিলাভ এবং ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল প্রভা।

আরও পড়ুন