স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চান মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট: 03:14:09 14/10/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চেয়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এই নিশ্চয়তা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের ভাগ্নে, ত্রাণের চাল চুরি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর অত্যাচার, নিপীড়ন এবং বিএনপি-জামায়াত দিয়ে তৈরি সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে মণিরামপুরের জনগণ ও খাঁটি আওয়ামী নেতা কর্মীদের মুক্তি এবং সাধারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দিনরাত জীবন হাতে নিয়ে কাজ করে যাওয়া আমি যেন স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা পাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরো ছিলেন উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামা লীগ নেতা মিকাইল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সন্দীপ ঘোষ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী টিটো প্রমুখ।
চেয়ারম্যান নাজমা বলেন, ‘‘গত ১৩ অক্টোবর উপজেলার শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু গাছ বিক্রির জন্য মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকাশ্য নিলাম আহ্বান করেন। নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আমার এলাকার প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সবুজ কর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আগে থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে থাকা মণিরামপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু হুংকার দিয়ে বলে, ‘এই নিলামে অন্য কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। করলে জানে মেরে ফেলে দেবো।’ এই হুংকারের পরই সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনী নিয়ে হাবিব এবং সবুজের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। নিলামে অংশগ্রহণের জন্য কাছে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের একটি ঘরের মধ্যে জোর করে আটকে রাখে। আমি এই সংবাদ শুনে আওয়ামী লীগ নেতা সন্দীপ ঘোষ ও আমার ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম নয়নকে নিয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ, শান্তিশৃংখলা রক্ষা, এবং দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যাই। ওই সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং মেরে ফেলার উদ্দেশে ছাত্রনেতা সন্দীপ ঘোষ, আমার ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলামকে গুরুতর জখম করে। এঘটনায় আমি বাদী হয়ে চিহ্নিত অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করলেও অজ্ঞাত কারণে এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু ৫৪৯ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়েও কীভাবে এখনো সপদে বহাল থেকে পুলিশের নাকের ডগায় এহেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে? এবং সে কেন এখনো গ্রেফতার হয়নি?’
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে জনমুখী কল্যাণকর প্রতিটি উদ্যোগে ভাইস চেয়ারম্যান বাচ্চুর বিভিন্ন বাধার সম্মুখিন হয়ে আমার জীবন ওষ্ঠাগত। সে বারবার হত্যার হুমকি, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে আঘাত করে আমাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত করেছে।’

আরও পড়ুন