স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই শার্শার সাতমাইল পশুহাটে

আপডেট: 07:41:56 18/07/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুহাট যশোরের শার্শার সাতমাইল পশুহাটে আসা হাজার হাজার মানুষের মাঝে। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও।
সরকার দেশীয় খামারিদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুহাট পরিচালনার অনুমতি দেয়। কিন্তু কারো যেন সেই নির্দেশের প্রতি নজর নেই। ফলে সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েই হাট পরিচালনা করছেন ইজারাদাররা।
রোববার (১৮ জুলাই) সাতমাইল পশুহাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে গরু কেনা-বেচা করতে। কিন্তু সেখানে মাস্ক ব্যবহার বা শারীরিক দূরত্ব মানার কোনো আগ্রহ নেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে। এছাড়া সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে রাস্তার ওপর বসেছে পশুর হাটটি। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। হাট তদারকিতে জনসাধারণের স্বাস্থ্যবিধি মানতে ইজারাদারদের পক্ষে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কারো কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
সেখানকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পশুহাটের যে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে নতুন করে আবারও এ হাট থেকে আশপাশের গ্রামগুলোতে করোনার সংক্রমণ ছড়াবে।
গরু কিনতে আসা জাফর জানান, খামারিদের কথা বিবেচনা করে এ মুহূর্তে গরুর হাট চালু রাখা জরুরি। তবে, স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সাতমাইল গরুহাটের ইজারাদার খতিব ধাবক বলেন, 'কিছুদিন হাট বন্ধ থাকায় মানুষ কুরবানির গরু কিনতে পারেনি। এখন হাট চালু হওয়ায় গরু বেশি উঠেছে; তাই লোকসমাগম একটু বেশি হয়েছে। তবে বেচাকেনা কম। গরু হাটে এর চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যবিধি মানা যায় না। তারপরেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিয়ম মানতে।'
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইজারাদারদের। রাস্তার ওপর যাতে পশুরহাট না বসে তার জন্য প্রয়োজনে কম গরু হাটে তুলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও যদি নির্দেশনা না মানে, তাহলে হাট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউছুফ আলী বলেন, এখন ক্রান্তিকাল। এই মুহূর্তে মানুষ যদি সচেতন না হয়, তাহলে ঈদ পরবর্তী সময়ে আরও বড় ধরনের মৃত্যুর মিছিল দেখতে হতে পারে। সে জন্য হাট বাজার বিশেষ করে বর্তমানে পশুহাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি শতভাগ মাস্ক পরা জরুরি।

আরও পড়ুন