হাই ফ্লো অক্সিজেনের জন্য যশোরে বসছে প্লান্ট

আপডেট: 10:24:00 10/07/2020



img

শহিদ জয় : যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবার বসছে তরল অক্সিজেন প্লান্ট। এর ফলে শ্বাসকষ্টের রোগীরা হাই ফ্লো অক্সিজেন সুবিধা পাবেন।
আজ শুক্রবার সকালে যশোর সার্কিট হাউজে অনু্ষ্ঠিত ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত জেলা কমিটি’র সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, যিনি যশোর জেলার করোনা প্রতিরোধ ও ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সভা থেকে অনুরোধ জানানো হলে ড. আবু হেনা যশোর হাসপাতালে দ্রুত অক্সিজেন প্লান্ট বসাতে দরকারি ভূমিকা রাখবেন বলে কথা দেন।
সভা শেষে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন সুবর্ণভূমিকে জানান, জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন মেরামতসহ অক্সিজেন সরবরাহে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বিষয়টি শুনেছেন এবং এই বিষয়ে দরকারি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন জানান, যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন রয়েছে। কিন্তু তা ব্যবহার উপযোগী নেই। এখন করোনা পরিস্থিতিতে এই অক্সিজেন লাইন জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণে এই উদ্যোগ।
পরে যোগাযোগ করা হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায়ও এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ডা. রায় আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি এই সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন।
সদ্য করোনাজয়ী ডা. দিলীপ রায় সুবর্ণভূমিকে জানান, কোভিড-১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে তরল অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে ৩৯টি হাসপাতালে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল, তার মধ্যে যশোর ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করে যশোর জেনারেল হাসপাতালকে তালিকাভুক্ত করেন।
তিনি জানান, এই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ছয়টি বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনও। কিন্তু তা অকেজো। মেরামতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নেমিউ (NEWME) কর্মীরা এসে ইতিমধ্যে সার্ভে করে গেছেন।
‘আমার জানা মতে, তারা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশও করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি ডাইরেক্টর হসপিটালসের সাথেও কথা বলেছি। ইউনিসেফ (UNISEF) এই কাজটি করবে। আশা করি দ্রুতই যশোরে অক্সিজেন প্লান্ট বসবে এবং সঞ্চালন লাইন মেরামত হয়ে যাবে,’ বলেন ডা. রায়।

কী কাজে লাগবে অক্সিজেন প্লান্ট
তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায় জানান, এখন জেলা শহরের রোগীদের ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় পোর্টেবল সিলিন্ডারের মাধ্যমে। এই সিলিন্ডারের মাধ্যমে হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করা যায় না। কিন্তু কোনো কোনো রোগীর, বিশেষ করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। তার দরকার হয় হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহের। এই ধরনের রোগীর জন্যই মূলত অক্সিজেন প্লান্ট ও সরবরাহ লাইন দরকার।
তিনি জানান, তরল অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হলে সেখানে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন মজুত থাকবে। রোগীদের মাথার কাছে থাকবে অক্সিজেন সরবরাহ লাইন। সেখান থেকে হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে রোগীর শরীরে। সাধারণ সিলিন্ডারে নাজাল ক্যানোলা সেট হয় না। সেক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি খুবই কার্যকর।
এক প্রশ্নে তিনি জানান, এই অঞ্চলের কোথাও তরল অক্সিজেন প্লান্ট ছিল না। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকদিন আগে খুলনায় একটি প্লান্ট বসানো হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সংক্রান্ত উদ্যোগ ও তৎপরতার বিষয়টি আজ সকালের সভায় তুলে ধরা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যাতে অক্সিজেন প্লান্টসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাদি অর্জন করা যায়, সেই উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা ছাড়াও প্রতিরক্ষা সচিবকে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায়।
এর আগে গত মাসের শেষে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর আনা হয়। কিন্তু সেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি।
কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না- জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘ভেন্টিলেটর পেয়েছি, কিন্তু আইসিইউ বেড পাইনি। তাছাড়া ভেন্টিলেটর স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ত কাজ এখনো শেষ করা যায়নি।’
দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক করোনা রোগীর অবস্থান যশোরে। এই জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছুঁইছুঁই। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম ছাড়া মরণাপন্ন রোগীদের বাঁচানো সম্ভব না- তা এখন সবাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন