হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট: 02:39:26 09/11/2019



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া থানা হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামে এক যুবককে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শিহাব মল্লিক একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে বৃহস্পতিবার লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিনি লোহাগড়া পৌর এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।
শিহাব মল্লিক জানান, ২ নভেম্বর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিহাব ফুফাতো ভাই বদরুল মল্লিককে মারধর করেন। এ ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামি করে ঘটনার দিনই লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক পরদিন রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই সিদ্দিক তাকে হাতকড়া পরান এবং চোখ বাঁধে। এরপর পরের দিন ৪ নভেম্বর (সোমবার) সকাল অবধি কয়েক দফায় তার শরীরের ওপর নির্যাতন চলে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সোমবার তাকে কিছুটা সুস্থ করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শিহাবের দুই হাঁটু থেকে কোমরের নীচ পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং কালো দাগ রয়েছে। সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে।’
শিহাবের এক নিকটাত্মীয় দাবি করছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে শিহাবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন।
এসআই সিদ্দিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, যেদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে কোনো অত্যাচার করা হয়নি।
শিহাবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এলো কীভাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তার শরীরে বিভিন্ন দাগ পূর্ব থেকে ছিল কিনা তা বলতে পারব না। এছাড়া শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকলে আদালত সেই আসামিকে গ্রহণ করে না।’
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন বলেন, ‘শিহাব মল্লিককে গ্রেফতারের পরদিন সোমবার আদালতে চালান দেওয়া হয়। এখন কয়েকদিন পর সে জামিন পেয়ে নির্যাতের অভিযোগ করছে। বিষয়টি সঠিক নয়। আর অসুস্থ ব্যক্তিকে আদালত কখনো গ্রহণ করে না।’
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযোগটি শোনার পর লোহাগড়া ওসিকে ফোন করে জানতে পেরেছি অভিযোগটি সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি ভালো করে তদন্ত করে দেখছি।’

আরও পড়ুন