হাতুড়ে ডাক্তারের অপারেশনে মহেশপুরে প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট: 05:07:46 10/08/2020



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে আবারো সিজারের পর মরিয়াম খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি উপজেলার নেপা ইউনিয়নের জিনজিরা গ্রামের সিকদার আলীর স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রামের মকলেস তরফদারের মেয়ে।
রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার নেপার মোড়ে ‘মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতাল’ নামে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিজারের পর সোমবার সকালে মারা যান মরিয়াম।
এর আগে ৬ আগস্ট একই বাজারের ‘একতা ক্লিনিক’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে লাবনী নামে এক গৃহবধূ অস্ত্রোপচারের পর মারা যান।
মারা যাওয়া এই দুই গৃহবধূকে সোহেল রানা নামে স্থানীয় এক ডাক্তার অপারেশন করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, গৃহবধূ মরিয়ামের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে রোববার বিকেলে উপজেলার নেপার মোড়ে মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাতে ডাক্তার মো. সোহেল রানা ও গ্রাম্য ডাক্তার শ্রীলক্ষ্মণ অপারেশন করেন। এরপর সোমবার সকালে মারা যান মরিয়াম। মারা যাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ক্লিনিক মালিক মৃত গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নিয়ে যান। কিন্তু যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকায় পৌঁছে ওই গৃহবধূ ‘মারা গেছেন’ জানিয়ে মরদেহ ফেরত আনেন।
মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা মনু সিজারের পর গৃহবধূ মরিয়াম মারা যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। তার ভাষ্য, ‘রোগীর কিডনির সমস্যা ছিল। রাতে অপারেশনের পর সকালে সে সুস্থ ছিল। পরে সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর নেওয়ার সময় রাস্তা ভালো না হওয়ায় অতিরিক্ত ঝাঁকুনির ফলে মারা যেতে পারে।’
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনজুমান আরা বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলছেন, ‘মরিয়াম সিজারে ত্রুটির কারণে মারা গেছে- এমন কোনো সংবাদ আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে, যদি তেমন হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, গত ৬ আগস্ট সিজারের পর মারা যাওয়া লাবনী ঘটনাটির তদন্ত চলছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাবনীর পরিবারের অভিযোগ, কথিত চিকিৎসক সোহেল রানা সিজার করেছিলেন। সিজারের পর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লাবনী। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য লাবনীকে জীবিত দেখিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর জেনারেল হাসপাতালে।
এলাকাবাসী বলছেন, ক্লিনিকটির লাইসেন্স নেই। নেই চিকিৎসার ন্যূনতম পরিবেশ। কোনো প্রশিক্ষিত নার্সও নেই। হাসপাতালের মালিক মোহন লাল ওয়ার্ড বয়, মা আয়া ও ছেলে সোহেল ডাক্তার সেজে ক্লিনিকটি পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন