নির্যাতনে হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা, তিন মেয়ে ঘরের বাইরে

আপডেট: 05:11:39 08/03/2021



img

নড়াইল প্রতিনিধি : লম্পট স্কুলশিক্ষক স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারজানা বেগম (৩৪)। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনাটি নড়াইল সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে ঘটেছে। স্বামী শাহানশাহ সরদার একমাস আগে তার এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। তার বাবার নাম সবদার সরদার।
মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক শাহানশাহ সরদারের সাথে ২১ বছর আগে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের মেয়ে ফারজানার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি মেয়েসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে শাহজাদী মারিয়া এইচএসসি, মেজ মেয়ে শাহ আফরিন নবম শ্রেণিতে এবং ছোটমেয়ে ফাতেমা তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা বলেন, 'বিয়ের পর স্বামীর বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারির তথ্য জানতে পারি। যেহেতু বিয়ে হয়েছে, সে কারণে সব মুখ বন্ধ করেই সহ্য করে এসেছি। বিয়ের ৪-৫ বছর পর অর্থাৎ ২০০৫ সালে পলি নামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে আমার স্বামী। পরবর্তীতে পরিবার ও আমার অনুরোধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসারে কিছুটা শান্তি ছিল। কিন্তু মাঝেমধ্যেই নারীঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেও সেসব সহ্য করেছি। সর্বশেষ এই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মাইজপাড়া ইউনিয়নের কল্যাণখালী গ্রামে তার এক ছাত্রীকে (মারিয়া) সে বিয়ে করে। গত ৬ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় শাহানশাহ, তার তৃতীয় স্ত্রী মারিয়া ও শ্বশুর সবদার সরদার মিলে আমাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারা শুরু করে। মেয়েরা ঠেকাতে গেলে তাদেরও মারপিট করা হয়। আমার গর্ভে আট মাসের সন্তান রয়েছে। পেটে লাথি মারায় ব্লিডিং হয়। অমানবিক নির্যাতনে আমি অচেতন হয়ে যাই।’
ফারজানার মেজ মেয়ে শাহ আফরিন বলে, ‘মাকে মারপিটের পর প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে। আমরা তি নবোন অ্যাম্বুলেন্সে মাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থা খারাপ হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন সেখানকার ডাক্তাররা। রাত দুইটার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে মাকে ভর্তি করি।’
আফরিন আরো বলে, ‘এ ঘটনার পর আমাদের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বাবা। আমরা কোথায় থাকবো ভেবে পাচ্ছি না। তাছাড়া নানাভাবে আমাদের হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে।’
'বাবা হলেও তিনি অপরাধী। এ পর্যন্ত আমার বাবার দ্বারা অন্তত ২৫ জন নারী কলঙ্কিত হয়েছে। আমরা সঠিক বিচার চাই,' বলে আফরিন।  
প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহান শাহ সরদার ফোনে বলেন, ‘আমি তৃতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে এসব করছে।’  
আপনার তৃতীয় স্ত্রী মেয়েদের ঘরে উঠতে দিচ্ছেন না- এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোন লাইন কেটে দেন।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন