হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় আরো পাঁচজনের সাক্ষ্য

আপডেট: 06:43:43 22/11/2020



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় আরো পাঁচজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রোববার দুপুর ১২টা থেকে পৌনে দুটো পর্যন্ত সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. হুমায়ুন কবীর সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ নিয়ে এই পর্যন্ত মামলাটিতে ১৫ জন সাক্ষ্য দিলেন।
তারা হলেন, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ফাতেমা জাহান সাথী, ক্যামেরাম্যান শহীদুল ইসলাম জীবন, জোবায়দুল হক রাসেল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ ও সৈনিকলীগনেতা সরদার মুজিব।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান জানান, রোববার আসামিপক্ষকে হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিলের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল ও সাক্ষ্যদানের দিন ধার্য ছিল। আসামিপক্ষ নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশ চাওয়া সংক্রান্ত রোববার শুনানি হওয়া ও সোমবার অধিকতর শুনানির জন্য দিন আছে মর্মে কাগজপত্র দাখিল করে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করে আদালতে সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক হুমায়ুন কবীর তা নামঞ্জুর করেন। পরে তিনি একে একে পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করলেও আসামিপক্ষ তাদের জেরা করেননি। স্বাক্ষী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদকেও জেরা করেননি তারা।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল দশটায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখে যশোরে ফিরছিলেন। পথে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর একটি যাত্রীবাহী বাস আড় করে দিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে এক ডজন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদী হয়ে যুবদল নেতা আশরাফ হোসেন, আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০-৭৫ জনকে সাতক্ষীরা নালিশি আদালত ‘ক’ অঞ্চলে মামলা করেন। বিচারক এম আই ছিদ্দিকী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়াকে নির্দেশ দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ‘ঘটনা মিথ্যা’ বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
নিম্ন আদালতে বাদির পক্ষে রায় না হওয়ায় ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট বাদী এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে ক্রিমিনাল মিস কেস (৫৮৯৩/০৪) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই আপিল মঞ্জুর করে নিম্নআদালতের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে নিম্নআদালতে মামলার কার্যক্রম নতুন করে শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাদীর উপস্থিতিতে নারাজির শুনানি করার জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিম নিতাইচন্দ্র সাহা ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিকুর রহমান ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে এসটিসি ২০৭/১৫, এসটিসি ২০৮/১৫ দুটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন। আর টিআর ১৫১/১৫ মামলাটি মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বিচারাধীন। অপর টিআর ১৫১/১৫ মামলাটি মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বিচারাধীন ছিল। মামলায় বাদী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মোসলেমউদ্দিনসহ নয়জন সাক্ষ্য দেন। তবে বাদীকে জেরা করেনি আসামিপক্ষ।
২০১৭ সালের ৯ ও ২৩ আগস্ট আসামীপক্ষ মামলা তিনটির কার্যক্রম হাইকোর্টে আবেদন করে স্থগিত করান। দীর্ঘ তিন বছর পর উভয়পক্ষের শুনানির পর আসামিপক্ষের মিসকেস খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট ওই মামলাগুলো ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্নআদালতকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী গত ৪ নভেম্বর মামলার বাদী মোসলেমউদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির হন। ওইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ‘হাইকোর্টে ক্রিমিনাল মিস কেস খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল দাখিল করেছেন’ উল্লেখ করে বলেন, চেম্বার জজ মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে ২২ নম্বর ক্রমিকে রেখে আগামি বছরের ৪ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এ সংক্রান্ত আইনজীবীর প্যাডে লেখা সনদ তারা আদালতে উপস্থাপন করেন। বিকেলে বিচারক হুমায়ুন কবীর এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে আসামিপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের মূল কপি উপস্থাপন ও বাদীর সাক্ষ্যের জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওই দিন এবং রোববার তারা সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশের কোনো কপি মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।

আরও পড়ুন