২০ টাকায় প্রাইভেট পড়ান বৃদ্ধ ফখরুল

আপডেট: 01:42:18 01/03/2021



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : ফখরুল আলম; বয়স ৭৯ বছর। সাত সন্তানের জনক এই বৃদ্ধের কাঁধে এখনো সংসারের ভার। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই হার্টের রোগী। মাঝেমধ্যেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয়। ওষুধ কিনতে গিয়েই টালমাটাল অবস্থা। তারপর আবার রয়েছে ছোট তিন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ।
আর এগুলোর সংকুলান করতে, জীবিকার জন্য এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটছেন তিনি। বাইসাইকেল চালিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন দিন প্রতি ২০ টাকায়।
ফখরুল আলমের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে। বাবার নাম আবুল হাশেম।
একটি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন তিনি। মিশে যান পল্লী-গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েদের সাথে। গ্রামের পিছিয়েপড়া ছেলেমেয়েদের পড়ানোর সুযোগ নেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীকে পড়ান ।
বৃদ্ধ ফখরুল বলেন, ''কোম্পানির লোকজন 'গিভ অ্যান্ড টেক' ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা আমাদের কষ্ট বোঝে না। বাচ্চাদের মধ্যে এতো পাপ স্পর্শ করেনি। তাদের মধ্যে 'গিভ অ্যান্ড টেক' নেই। তাই বাচ্চাদের পড়াই। তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করি। যারা টাকা দিতে পারে না, তাদের ফ্রি পড়াই। আবার অনেকের কাছ থেকে ২০ টাকার কমও নিই।''
তিনি আরো বলেন, 'তবে এখন আমার বয়স হয়েছে। তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তারা যার যার সংসার করছে। মেজ ছেলে কিছু টাকা দেয়। তা দিয়ে আমার ওষুধের দামও হতে চায় না। বাধ্য হয়ে জীবিকার জন্য এখনো পড়াই।'
শিল্পী খাতুন নামে এক অভিভাবক বলেন, 'আমার ছেলেমেয়েকে তার কাছে পড়াই। তার পড়ানোটা ভালো। আগে ছেলেমেয়েরা রিডিং পড়তে পারত না। এখন রিডিং পড়তে পারে। অংকও শিখেছে।'
ফলবিক্রেতা শাজাহান বলেন, '২০ টাকার প্রাইভেট দেখে আমার মেয়েকে পড়াতে বলেছিলাম। যেদিন পড়াবো সেদিন ২০ টাকা দিতে হবে। যেদিন পড়াবো না সেদিন আর দেওয়া লাগবে না।'
মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পান্নু মিয়া বলেন, 'ফখরুল স্যার আমাদের খুবই শ্রদ্ধাভাজন। তিনি অনেক শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। এ বয়সে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন- এতে আমরা খুবই আনন্দিত । ভবিষ্যতে তাকে কোনো সহযোগিতা করতে পারলে খুশি হবো। তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে সব সময়।'

আরও পড়ুন