৩৪ বছর লীগের রাজনীতি করে হতাশ কাশেম

আপডেট: 03:06:28 15/02/2020



img

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রাজনীতি শুরু। সে ১৯৮৬ সালের কথা। তিনি পে উপজেলা যুবলীগের দুই দুই বার নির্বাচিত সভাপতি। পৌর কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে এসে মামলা-হামলা হয়েছে অনেকবার। তবু তিনি এই রাজনীতি বুকে লালন করে দীর্ঘ ৩৪ বছর পার করছেন।
এই রাজনীতিক হলেন, কোটচাঁদপুরের অতি পরিচিত মুখ মীর কাশেম আলী। পোড় খাওয়া এ নেতা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। রাজনীতি করতে এসে কী পেলেন, তা ভাবেননি কখনো। বর্তমান রাজনীতির গতি-প্রকৃতিতে তিনি হতাশ। সুবর্ণভূমির কাছে চলমান রাজনীতির কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা গেছে তাকে। বেরিয়ে এসেছে হতাশার কথাও।
মীর কাসেম আলী বলেন, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোটচাঁদপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে তার রাজনীতি শুরু। ১৯৮৭ সালে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনের সময় ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং ডিটেনশন খাটেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ৮-১০টি ‘মিথ্যা মামলা’ হয় তার বিরুদ্ধে। ওই সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে তাকে দূরে রাখতে সাতবার গ্রেফতার করা হয়। একই সালে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পান মীর কাসেম আলী। ১৯৯৭ সালে তিনি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে যুবলীগের উপজেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আবার ‘মিথ্যা মামলা’য় একাধিকবার কারাবরণ করতে হয় তাকে। ২০০৫ সালে দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সালে বিএনপি জামায়াতের ‘সাজানো মামলা’য় পুলিশ দফায় দফায় মীর কাসেম আলীকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় নারী-পুরুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়লে র‌্যাব মীর কাসেম আলীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২০০৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি জোট সরকারের ‘সাজানো নির্বাচন’ প্রতিহত করার আন্দোলনে কোটচাঁদপুর এলাকায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন মীর কাসেম।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠ পর্যায়ে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন এবং তাদের প্রার্থী বিজয়ী হন।
২০১৪ সালে তার ভাষায়, জামায়াত-বিএনপির তাণ্ডবের মুখেও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে সফল হন। যদিও ওই নির্বাচন ছিল একতরফা।
২০১৬ সালে তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তিনি ২৬ হাজার ভোট পেলেও সামান্য ভোটে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
মীর কাসেম আলী দুঃখ করে বলেন, ‘আমার টানপড়েনের সংসার। তারপরও রাজনীতি করতে যেয়ে কখনোই সে দিকে খেয়াল করিনি। জীবনটা পার করে দিলাম নৌকার রাজনীতি করে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার পর আমি তা চেয়েও পাইনি। এর থেকে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে! দলীয় প্রতীক না পাওয়ায় আমি আর নির্বাচন করিনি।’
‘আগামীতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে যদি স্থানীয় নির্বাচনের সুযোগ দেন তবেই আমি নির্বাচন করবো; না হলে করবো না।’
আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী মীর কাসেম আলীকে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ আখ্যা দেন। তারা বলেন, শেখ হাসিনা ত্যাগী নেতাকর্মীদের কখনো নিরাশ করেন না। মীর কাসেম আলীকেও তিনি বিমুখ করবেন না বলে তাদের আশা।

আরও পড়ুন