‘উন্নয়নের রোল মডেল, ঘরে ঘরে ক্যাসিনো’

আপডেট: 02:24:04 25/09/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ঢাকায় ক্যাসিনো পরিচালনায় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের ঘরে ঘরে এখন ‘ক্যাসিনো’ ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় দুই আওয়ামী লীগ নেতার বাসা থেকে ‘ক্যাসিনোর’ পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে জনসভায় এই কথা বলেন তিনি।
ওই জনসভায় গোয়েন্দাদের দেওয়া ‘দুর্নীতিবাজদের’ তালিকা এবং ক্যাসিনো চালানোয় গ্রেফতাররা যাদের নাম বলছেন, তাদের সবার কথা জনগণের সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বরচন্দ্র রায়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সম্প্রতি এক দলীয় সভায় যুবলীগ নেতাদের ‘অপকর্ম’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজ-টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রথম অভিযানেই ঢাকার ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ও গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রে ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোয় যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ কৃষকলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।
সকালে গেণ্ডারিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাই, তাদের এক কর্মচারী এবং এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব।
এর দিকে ইঙ্গিত করে জনসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা (আওয়ামী লীগ) জনগণের সরকার নয়, এরা গণবিরোধী সরকার। তারাই বড়াই করে বলে বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল। এমন উন্নয়নের রোল মডেল যে, এখন আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে ক্যাসিনোর জোয়ার বইছে।”
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।
“বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করছে না। কারণ এটা একটা লুটেরা দেশ হয়ে গেছে। তারা মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগানও ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ জনবিরোধী সরকার। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসেছে। এরা সুপরিকল্পিতভোবে সচেতনভাবে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একটা গৃহপালিত বিরোধীদল বানিয়েছে। সরকার হা বললে তারা হা বলে, না বললে তারা না বলে।”
আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘লুটেরা সরকার’ আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের ‘সার্বভৌমত্ব থাকবে না’।
“তাই আপনারা যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, তাহলে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হন।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এই সরকার লুটেরার সরকার, এই সরকার ক্যাসিনোর সরকার। তারা জনগণের সরকার নয়।
“তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।”
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, তাদের নেত্রীকে একটি ‘ভুয়া মিথ্যা সাজানো’ মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।
“আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করছি, এখনো করে যাচ্ছি। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে, সরকারের হস্তক্ষেপে তাকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না।”
রাজপথই খালেদার মুক্তির একমাত্র পথ মন্তব্য করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, “যেই দুর্নীতিবাজদের তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আপনাদের কাছে দিয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করুন। আর যারা আটক হয়েছে তারা কাদের নাম বলেছে তাদের নামও প্রকাশ করুন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনুন।”
তিনি বলেন, “যারা আজকে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছেন যদি তারা দেশপ্রেমের তাগিদে নেমে থাকেন, দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বাঁচানোর তাগিদে নেমে থাকেন তাহলে পাশে জনগণ আছে, আমরাও থাকব।”
সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ হয়। সিলেট ছাড়াও আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সভাস্থ ছাড়িয়ে মানুষের ঢল পাশের সড়ক, আদালত ও জেলা প্রশাসক সড়ক, সুরমা ব্রিজ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। কর্মীদের হাতে খালেদা জিয়ার ছবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, নেত্রীর মুক্তি দাবিতে নানা স্লোগান দিয়ে জনসভাস্থল সরব করে রাখেন তারা।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাহের শামীমের সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ও মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকীর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, এনামুল হক চৌধুরী, আব্দুল হক, তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, সাখাওয়াত হাসান জীবন, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, কলিম উদ্দিন মিলন, সালাউদ্দিন টুকু, সিলেটের দিলদার হোসেন সেলিম, জিকে গউস, আবদুর রাজ্জাক, নাসিম হোসেন, শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
দুপুরে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সিলেটে পৌঁছানোর পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মো. শাহজাহানসহ ঢাকা থেকে আসা নেতারা হজরত শাহ জালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন