‘কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর খুন করে সুব্রত’

আপডেট: 10:51:59 12/01/2020



img
img

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামে কলেজছাত্রী মরিয়ম খাতুন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, সুব্রত মণ্ডল নামে এক যুবক তাকে ধর্ষণের পর খুন করে।
সুব্রতকে এর আগেই আটক করে পুলিশ। সুব্রত (২২) শ্যামনগর উপজেলা সদরের কাঁচড়াহাটি গ্রামের পরিমল মণ্ডলের ছেলে।
আর নিহত মরিয়ম খাতুন ছিলেন পাশের বাদঘাটা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের মেয়ে। তিনি স্থানীয় সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।
রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য তুলে ধরে ঘটনার বিশদ বর্ণনা দেন।
পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাদঘাটা গ্রামের পরিমল মণ্ডলের ছেলে সুব্রত মণ্ডল এ হত্যাকাণ্ডের হোতা। বুধবার সন্ধ্যার পর সে ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মরিয়মকে হত্যা করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, দুই বছর ধরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে মরিয়ম তাকে বিয়ের জন্য সুব্রত মণ্ডলকে চাপ দিচ্ছিলেন। ঘটনার দিনে দুইজন সাক্ষাতকালে মরিয়ম তাকে বিয়ে না করলে সুব্রতর বাড়িতে গিয়ে ওঠার হুমকি দেন। না হলে তাকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্যও চাপ সৃষ্টি করেন। যার কারণে সুব্রত প্রেমিকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তাকে খুন করে মৃতদেহ ফেলে রেখে বাড়িতে ফেরে।
সুব্রতকে শনিবার ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে শ্যামনগর থানা পুলিশ।
এদিকে, সরকারি মহসীন কলেজের ছাত্রী মরিয়ম খাতুনের হত্যাকারীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবিতে রোববার বেলা ১১টায় শ্যামনগরে তার সহপাঠীসহ শিক্ষক-কর্মচারী এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
গত ১০ জানুয়ারি সকালে উপজেলা সদরের বল্লভপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে খড়ের গাদার ওপর থেকে মরিয়মের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আগের দিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন