‘কে কখন অফিসে আসছেন আপনারা কি দাঁড়িয়ে দেখেন?

আপডেট: 08:41:31 09/09/2020



img
img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিক মতো অফিসে না আসার অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অফিস দুটির কর্তারা নানা অজুহাতে সপ্তাহে ৩-৪ দিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে ব্যক্তিগত কাজে থাকেন। ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের কয়েকজন সকাল নয়টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের ওই দুটি দপ্তরে যান। তারা সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পান।
অফিসে গিয়ে দেখা যায় মেইন গেট তালাবদ্ধ। তখন সকাল সোয়া নয়টা। গেটের সামনে উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের ফিরোজা বেগম নামে একজন মহিলা একটি অসুস্থ ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আরো পাঁচ মিনিট পর অফিসের ল্যাব টেকনিশিয়ান নওশাদ আলীকে আসতে দেখা যায়।  তিনি অফিসের ল্যাব টেকনিশিয়ান পরিচয় দিয়ে সংবাদকর্মীদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানতে পেরে অফিসে বসে কথা বলার আহ্বান করেন তিনি।
উপজেলার এই দপ্তরের প্রধান প্রভাষচন্দ্র গোস্বামী কখন আসবেন- জানতে চাইলে নওশাদ বলেন, ‘স্যারের  মিটিং আছে। আজ আসবেন না।’
অন্যরা কখন আসবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো একটু দেরি হচ্ছে।
তবে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অফিসের অন্য কাউকে আসতে দেখা যায়নি।
একইভাবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিসও তালাবদ্ধ ছিল। সকাল নয়টা ২০ মিনিটে দপ্তরের অফিস সহায়ক আব্দুল হাফিজকে অফিসের তালা খুলতে দেখা যায়। সংবাদকর্মী জানতে পেরে তিনি অফিসে প্রবেশ করেই অপ্যায়ন করানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে নয়টা অফিসে ঢোকেন এই দপ্তরের প্রধান উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকরামুল কবির। তিনি বলেন, ‘ভাই আজ একটু দেরি হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই অফিসের জনবল সাত। অন্যরা কখন আসবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যরা ফিল্ডে আছেন।
একটি বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কম্পিউটার অপারেটর এখনো আসেননি।’ কম্পিউটার অপারেটরও কি ফিল্ডে আছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, উনি এখনই আসবেন।’ তবে সকাল দশটা পর্যন্ত অফিসে কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষচন্দ্র গোস্বামী মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কে কবে, কখন অফিসে আসছেন আপনারা কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন? আমি যেদিন সকাল নয়টার আগে যাই, সেদিন তো দেখেন না! আমি আজ মিটিংয়ে আছি।’
সরকারি নির্দেশনা আছে কর্মস্থলে যোগদান করে মিটিংয়ে উপস্থিত হতে হবে। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘এরকম কোনো কিছু আমার জানা নেই।’
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘প্রত্যেকটি দপ্তরের দায়িত্ব সেই দপ্তরের প্রধানের। অফিস টাইমে সরকারি কোন অফিস তালাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। এমনটি হয়ে থাকলে আগামী সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।’

আরও পড়ুন