‘ঘুষ দিয়েও’ বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি ভ্যানচালক

আপডেট: 02:12:16 20/03/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : গরিব ভ্যানচালক মিজানুর রহমান নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর এরিয়া পরিচালক মো. কুদরত-ই খুদা কচির শরণাপন্ন হন। পরিবারের খাবার পানি পরিবহনের কাজে নিযুক্ত ভ্যানচালকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে ‘বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি প্রয়োজন হবে’ জানিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন কুদরত-ই খুদা।
তবে মিজানুর রহমান দুই প্রতিবেশী রমেশ ও মোসলেমকে নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এরিয়া পরিচালকের কাছে আবেদন-নিবেদন করে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে আবদ্ধ হন। তিনটি খুঁটি ও তিনটি মিটারের জন্য চুক্তি মোতাবেক প্রথম কিস্তির নয় হাজার টাকাও তারা পরিশোধ করেন কুদরত-ই খুদার চাহিদা মতো।
সেই ঘটনার পর দুই বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন, কোনো খুঁটি বসেনি। বরং শুরুতে নানা টালবাহানার পর গত কযেক মাস ধরে ভ্যানচালকসহ তার দুই প্রতিবেশীর কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের ওই এরিয়া পরিচালক।
প্রতারণার এই ঘটনার প্রতিকার দাবি জানিয়ে হয়রানির শিকার ভ্যানচালক মিজানুর রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারী মোড়লের ছেলে। বাদঘাটা গ্রামে বসবাসরত অভিযুক্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এরিয়া পরিচালক কুদরত-ই খুদা মৃত করিম গাজীর ছেলে।
প্রতারণার শিকার মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, কুদরত-ই খুদার বাড়িতে খাবার পানি সরবরাহের সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয়। এর সূত্র ধরে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ চান। তিনজনের জন্য দাবিকৃত ১৫ হাজার টাকার মধ্যে নয় হাজার শুরুতেই পরিশোধ করেন।
মিজানুর রহমান দাবি করেন, গরিব হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে এক মুদি দোকানির কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে তা দিয়েছিলেন কুদরত-ই খুদাকে। দুই বছরেও সে টাকা পরিশোধ করতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবছর হালখাতা করার পরও তিনশ’ টাকা বাকি রয়ে গেছে।
ভ্যানচালকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যেখানে বিনাখরচে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন, সেখানে তার কাছ থেকে ঘুষ নিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক প্রতারককে।
তবে এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এরিয়া-৪-এর পরিচালক কুদরত-ই খুদা দাবি করেন, মাত্র ৪৫০ টাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। আজকাল মানুষ এত বোকা নেই যে কেউ টাকা চাইলেই দিয়ে দেবে।
শুরুতে মিজানুর রহমানকে ‘চেনেন না’ বলে জানালেও পরে তিনি বলেন, ‘আমি বার বার নির্বাচিত হওয়ায় আমার প্রতিপক্ষ এই বদমায়েসকে দিয়ে এসব করাচ্ছে।’

আরও পড়ুন