‘চালপড়া’ খাইয়ে শিক্ষিকাকে চোর সাব্যস্ত

আপডেট: 06:40:08 25/02/2021



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা: প্রধানশিক্ষকের নির্দেশে ‘চালপড়া’ খেয়ে তা গলায় আটকে যাওয়ার ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকা চোর সাব্যস্ত হয়েছেন!
এমন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা চঞ্চলা রানী দাস।
আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও নিজেকে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তাহেরের কাছে থাকা ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা খোয়া যায়। আবু তাহের জানান, ওই টাকা স্কুলে শিক্ষকদের কক্ষেই হারিয়ে যায়। তিনি ব্যাংকে যেয়ে জানতে পারেন তার পকেটে টাকা নেই। এ নিয়ে সবার সাথে আলোচনার পর বিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষক কর্মচারীর কেউই নিশ্চিত করতে পারেননি টাকা গেল কোথায়।
প্রধান শিক্ষক জানান, এদিকে টাকা খুঁজে পেতে শিক্ষকরা পাশের মসজিদের ইমামের কাছ থেকে ‘চালপড়া’ এনে সবাইকে খাওয়ানোর প্রস্তাব দেন। উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে চঞ্চলা রানী দাস চাল চিবোতে কষ্ট পাচ্ছিলেন। এ থেকে তাদের ধারণা হয়- টাকা চুরির জন্য তিনিই দায়ী।  
চঞ্চলা রানী বলেন, আমি টাকা চুরির সঙ্গে জড়িত নই। এমনকী, ঘটনার দিন আবু তাহের স্কুলে থাকা অবস্থায় আমিসহ কয়েক শিক্ষক বাড়ি চলে যাই। পরদিন জানতে পারি, শিক্ষক তাহেরের টাকা খোয়া গেছে।
এদিকে, হারানো টাকার দায়দায়িত্ব তার ওপর চাপানোর ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। পরে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের পরামর্শ অনুযায়ী চঞ্চলা রানী আশাশুনি থানায় একটি জিডি করেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি রাজ্যেশ্বর দাস জানান, তিনি ঘটনা জানতে পেরেই শিক্ষকদের ডেকেছেন। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘চালপড়া’ খাইয়ে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে আশাশুনি থানার ওসি গোলাম কবির জানান, ওই জিডি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, টাকা চুরির অপবাদ দেওয়ায় চঞ্চলা রানী আত্মহত্যা করতে উদ্যত হন। তবে, তার পরিবারের সদস্যদের নজরদারি এবং সান্তনার মুখে তিনি সে পথ থেকে ফিরে আসেন।
তিনি জানান, তিনি সামাজিকভাবে অপমানবোধ করছেন। চুরির অপবাদ নিয়ে স্কুলে শিক্ষকতা করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছেন। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনেছেন এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মান্ধাতার আমলের এই চালপড়া প্রক্রিয়ায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনসম্মত নয়।’

আরও পড়ুন