‘টাকার জন্য তিন কিশোর খুন করেছিল নুরুজ্জামানকে’

আপডেট: 02:06:13 15/09/2020



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামান (৬০) হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটক করেছে তিন কিশোরকে।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারে কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করে কিছু তথ্য দেওয়া হয়।
জানানো হয়, ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউসপাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) এবং সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬) নামে তিন কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নুরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার মোটিভ ও ক্লু অজানা ছিল তদন্তকারীদের কাছে। ১১ মাস পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ ক্লু উদ্ঘাটনে সক্ষম হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিজিবির সাবেক সদস্য নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে ওই তিন কিশোর বাসায় যাতায়াত করতো। নুরুজ্জামানের সঙ্গেও তাদের সখ্য ছিল। ঘটনার দিন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাখার কথা জানতে পারে ওই তিন কিশোর। রাতে বাসায় ঢুকে তারা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যার পর মোবাইল ফোন, টিভি, কাপড়, লাগেজ ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায়।
নিহত নুরুজ্জামান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি বাজারের মৃত আব্দুল করিম বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বাড়ি করে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। নুরুজ্জামানের বড় ছেলে শাহিন ইমরান বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলখানায় রয়েছেন। মেজ ছেলে শামিম ইমরান ঝিনাইদহ আদর্শপাড়া তিন নম্বর ট্যাংকিপাড়ায় ব্যবসা করেন। আর ছোট ছেলে শাওন ইমরান সেনাবাহিনীতে চাকরি করছেন।
ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া নুরুজ্জামানের মোবাইলটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল। সেটি খোলার পরই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও ট্রাকিং করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, টাকার জন্যই আরাফাত, নিশান ও মিরাজ বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যা করে। এ ছাড়া কীভাবে তারা এই হত্যা মিশনে অংশ নেয়, আদালতে জবানবন্দিতে সেই বর্ণনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন