‘প্রাচীন তেঁতুলগাছটি রক্ষায় জীবন দিতেও রাজি’

আপডেট: 06:30:14 25/06/2020



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : প্রায় পাঁচশ’ বছরের পুরনো বিশাল গাছের ছায়ায় প্রতিবছর বৈশাখিমেলা বসে। গরমের দিনে গাছটির সুশীতল ছায়াতলে বসে পথিকসহ এলাকার পরিশ্রান্ত মানুষ নিজেদের শরীর শীতল করে নেন। প্রতি বছর এই গাছে প্রচুর তেঁতুল উৎপাদন হয়। যার বিক্রি করে পাওয়া অর্থ বাজারের একমাত্র মসজিদের উন্নয়ন কাজে জমা হয়। মৌসুমে পাকা তেঁতুল কুড়িয়ে রসনা তৃপ্ত করে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। এছাড়া এই বিশাল গাছটি বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের আশ্রয়স্থল।
গাছটির অবস্থান ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারের মাঝখানে। শ্রীবৃদ্ধি করে দাঁড়িয়ে থাকা কালের সাক্ষী পরম ভালোবাসার এই মহীরুহকে কাটতে এলাকার কিছু লোক উঠেপড়ে লেগেছে।
গত ২২ জুন গাছটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ উল্লেখ করে বা নতুন হাট চাঁদনি নির্মাণের কথা বলে এটি কেটে ফেলার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেওয়া আবেদনে স্থানীয় ত্রিলোচনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ছানা জোর সুপারিশ করে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। আবেদনটি করেন ইউনিয়ন পরিষদের সাত নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন ও আট নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কে এম শামছুল হক।
গাছটি কাটার ফন্দি আঁটা হচ্ছে- এমন কথা জানার পর এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠেছেন।
বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মান্নান (৬০) নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে বাজারের তেঁতুলগাছটির একটি ছোট ডালও ভেঙে পড়েনি। গাছে কোনো শুকনো ডালও নেই। এই গাছের ডাল ভেঙে পড়ে কোনো মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনাও কখনো ঘটেনি। কিন্তু গাছটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে কাটার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গাছের জন্য তারা জীবন দিতে প্রস্তুত বলে জানান এই ব্যক্তি।
তিনি বলেন, ‘বালিয়াডাঙ্গা বাজারের এই তেঁতুলগাছটি আমাদের ঐতিহ্য। বাজারের সবকিছু এই গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গাছের তলায় সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে। প্রচণ্ড খরায় এই গাছই আমাদের ছায়া দেয়। এই গাছের নিচেই আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে দোকানদারি করছি। এই তেঁতুলগাছের দ্বারা কোনোদিন ক্ষতি হয়নি।’
স্থানীয়রা জানান, বাজারের হাটচাঁদনি নির্মাণের জন্য তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। তারা সবাই গাছটি না কাটার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেন। 
বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পল্লী চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমান (৬৫) জানান, গ্রামবাসী ও বাজারের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ গাছটি না কাটার পক্ষে। এই গাছটির দ্বারা কেউ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাজারে সরকারি জমিতে অনেক দোকান আছে, সেগুলো উচ্ছেদ করলেই বড় হাটচাঁদনি নির্মাণ করা সম্ভব।
সুলতান আহমেদ নামে এক যুবক বলেন, ‘এই গাছটি ঐতিহ্যবাহী। একে বাঁচাতে জীবন দিতে রাজি আছি।’
ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সানা বলেন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারের পুরনো তেঁতুলগাছটি কাটার ব্যাপারে একটি দরখাস্ত ইউএনও-কে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী যদি না চান, তাহলে গাছ কাটা হবে না। 
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণারানী সাহা বলেন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারের গাছটি কাটার ব্যাপারে এখনো কোনো আবেদন তিনি পাননি। আবেদন এলে বিষয়টি সুবিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন