‘বিনেপয়সায় সিজার করাতি পারব স্বপ্নেও ভাবিনেই'

আপডেট: 08:56:57 04/06/2021



img

মাগুরা প্রতিনিধি: ' পয়সা ছাড়া সিজার হয় জীবনের প্রথম শুনলাম। গরিব মানুষ কাজ করে খাই। কুড়িডে হাজার টাহা বাইচে গিলো। গরিব মানষির জন্যি সরকার এতো বড় ব্যবস্থা করে রাখেছে আগে জানতাম তা। আল্লাহ ডাক্তার স্যারগেরে বাঁচায়ে রাহুক'- কথাগুলো বলছিলেন তোফায়েল বিশ্বাস।

দরিদ্র তোফায়েল কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। স্ত্রী মাসুরা সন্তানসম্ভবা। যেকোনো সময় সন্তান ভূমিষ্ট হবে। স্থানীয় কয়েকটি ক্লিনিকে গেছেন।  সবার কথা প্রায় এক- কমছে কম বিশ হাজার টাকা লাগবে প্রসূতির অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন) করতে। ধার করে গবাদিপশু বিক্রি করে টাকা যোগাড় করেছেন। ক্লিনিকে যাবেন। এমন সময় যোগাযোগ করেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকসেদুল মোমিনের সাথে। তিনি বিনাখরচে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করিয়ে দেন। ছয়বছর বন্ধ থাকার পর গত বুধবার  দুপুরে দরিদ্র গৃহবধূ মাসুরার অস্ত্রোপচার করলেন মাগুরার সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান ও মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকসেদুল মোমিন নিজ হাতে। এখন থেকে এই প্রসূতিসেবা চালু থাকবে বলে তারা জানান।
সিজারিয়ান অপারেশন হওয়া প্রসূতির বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পাচুড়িয়া গ্রামে।  
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন) কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সবরকম ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি হাসপাতালে শুধু একজন বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসক, একজন অ্যানেস্থেসিস্ট ও দুজন সেবিকার অভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকার এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছিল। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন দরিদ্র পরিবারের প্রসূতিরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রত্যন্ত এলাকার প্রসূতি ও শিশুদের সঠিক এবং উন্নতসেবা দিতে ওই  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনে আধুনিক সুবিধাসহ প্রসূতি অস্ত্রোপচারকক্ষ স্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের স্বার্থে অ্যানেস্থেসিস্ট ও শল্যচিকিৎসকও (সার্জন) নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বেশকিছু অস্ত্রোপচার হওয়ার পর ২০১৪ সালে  প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারকারী শল্যচিকিৎসক বদলি হয়ে চলে যান। এরপর এ পদে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে বন্ধ হয়ে যায় প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার।
ছয় বছর পর  মাগুরার সিভিল সার্জন বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক শহীদুল্লাহ দেওয়ানের নেতৃত্বে ডা. মকসেদুলু মোমিন, সৌমেন সাহা, ডা. সাইমুন নিছা, ওটি নার্সসহ অন্য সবাই মিলে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি অস্ত্রোপচার করে সফল হয়েছেন।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাসুরা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের যন্ত্রণার পরেও মুখে হাসি মাসুরার। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে চারদিক সুন্দর পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিনাখরচে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে পেরে তিনি দারুণ খুশি।
মহম্মদপুর  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকসেদুল মোমিন জানান, অস্ত্রোপচার চালুর জন্য লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহু আগেই জানানোর পর সমাধান হলো। চেষ্টা করব সেবা প্রদান অব্যাহত রাখার ।
সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান  বলেন,  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন)  কার্যক্রম চালুর জন্য চিকিৎসক ও সেবিকা নিয়োগ দিয়েছেন। আমি নিজহাতে একটি সিজার করে আবার চালু করলাম। এখন সেবাটা গতিশীল করাই লক্ষ্য।

আরও পড়ুন