‘মিঠুনের কারণে’ যশোর বড়বাজারের একাংশে ধর্মঘট

আপডেট: 08:14:09 06/01/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বড়বাজারের আটাপট্টিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, অনুব্রত সাহা মিঠুন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দেওয়ায় তারা এ বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালন করে।
বুধবার (০৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলে। পরে অভিযুক্ত মিঠুন ‘ক্ষমা চাওয়ায়’ বাজার কমিটির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানানো হয়েছে।
আটাপট্টির পদ্মা স্টোরের ম্যানেজার গণেশ চক্রবর্তী জানান, আজ ভোরে তাদের দোকানের সামনে পালু, শ্যামল, সাইদুলসহ কয়েকজন শ্রমিক ট্রাক থেকে মাল আনলোড করছিলেন। ওই সময় অনুব্রত সাহা মিঠুন এসে তাদের মা-বোন তুলে গালিগালাজ করেন। একইসাথে ট্রাক সরিয়ে নিতে বলেন। না হলে মারপিটের হুমকিও দেন। মিঠুনের দাবি, ভোরে মালামাল নামালে তার ঘুমের ডিস্টার্ব (ব্যাঘাত) হয়।
গণেশ চক্রবর্তী আরো বলেন, ‘বাজারের ভেতরে ভোরে ও রাতে মালামাল ঢুকতে দেয় প্রশাসন। ফলে লোড-আনলোডও ওই সময় করতে হয়। আমাদের কাছে কোনো বিকল্প নেই। বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয় না। এর আগেও অনুব্রত সাহা মিঠুন আমার প্রতিষ্ঠানের মালিকের মা-বোন তুলে গালিগালাজ করেছেন। উনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন বলে ভয়ে কেউ কিছু বলে না। তবে আজ শ্রমিকরা জানিয়ে দেয়, তারা বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবেন না। যে কারণে ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা স্টোরের মালিক সোহান ইসলাম বলেন, ‘বাজারের ব্যবসায়ী রামকুমার পোদ্দার ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি আমাকে ফোন করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধের কথা জানান। এরপর আমি বিষয়টি বাজার কমিটির সভাপতিকে জানাই। পরে শুনেছি বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।’
ব্যবসায়ী রামকুমার পোদ্দার বলেন, ‘শ্যামল নামে এক শ্রমিককে গালিগালাজ করেন অনুব্রত সাহা মিঠুন। যে কারণে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। শ্রমিকরা কাজ না করলে দোকান চলে না। সে কারণে ব্যবসায়ীরাও দোকান বন্ধ করে দেয়। দুপুর ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনা একদিনের নয়। অনুব্রত সাহা মিঠুন প্রায়ই ঘুম নষ্টের অভিযোগ তুলে বাজারের ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করে। যে কারণে আজ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তবে বাজার কমিটির সভাপতির হস্তক্ষেপে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি মীর মোশাররফ হোসেন বাবু বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি বিষয়টি প্রশাসনকেও অবহিত করি। পরে অনুব্রত সাহা মিঠুনকে খবর দিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসি। বৈঠকে মিঠুন দুঃখ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করে। এরপর দুপুর দুইটার কিছুসময় পর ব্যবসায়ীরা দোকান খোলে এবং শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অনুব্রত সাহা মিঠুন বলেন, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার গালিগালাজ করা হয়নি। বাজারের ব্যবসায়ী রাম সাহা ও নন্দলাল বড় বড় ট্রাক বোঝাই করে মালামাল ছোট্ট সড়কটি প্রবেশ করায়। তাদের কারণে একটি কালভার্ট ও বৈদ্যুতির খাম্বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ছিল। যে কারণে প্রায় তাদের ট্রাক ঢুকাতে নিষেধ করা হয়। সে বিষয়ে আজ বৈঠক ছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ট্রাক কালভার্ট অতিক্রম করবে না।
‘আসলে আমি বলতে চাই না, ওখানে একজন ব্যবসায়ী চোরাই চিনির ব্যবসায় করেন। তিনি বিষয়টি ভিন্নখাতে নিচ্ছেন,’ যোগ করেন মিঠুন।

আরও পড়ুন