‘মিনি সুন্দরবনের’ গাছ কেটে সাবাড়

আপডেট: 10:29:30 20/01/2020



img
img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : ‘মিনি সুন্দরবন’ খ্যাত মাদার নদীর চরে গড়ে ওঠা বনভূমির দুই শতাধিক গাছ রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার রাতে এসব গাছ কেটে পাচারকালে বিষয়টি গ্রামবাসীর নজরে আসে।
সুন্দরবন তীরবর্তী শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের মাদার নদীর চরে প্রায় ২৫ বছর আগে এই বনাঞ্চল গড়ে তোলা হয়।
এদিকে সোমবার সকালে ‘মিনি সুন্দরবনের’ পাহারাদার সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা কেটে ফেলা গাছসহ হাতেনাতে আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। পাশের সোরা গ্রামের রাজউদ্দীন গাজীর ছেলে ওই বনেরই পাহারাদার সিরাজুল দাবি করেন, স্থানীয় রফিকুল ইসলামের নির্দেশে বিক্রির জন্য এসব গাছ কাটা হয়।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বনের ভেতরের কয়েকটি অংশে বিক্ষিপ্তভাবে জড়ো করে রাখা হয়েছে কেওড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছ। আবার কোনো কোনো স্থানে সদ্য কেটে নেওয়া গাছের গোড়ার অংশ থাকলেও মূল গাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সোরা গ্রামের কিছু দুস্কৃতকারী প্রায় প্রতিদিন রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে নিয়ে পাচার করছে। আবার অনেকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহারের জন্য একই গ্রামের নারী শ্রমিকদের দিয়ে দিনের আলোতেও গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
‘মিনি সুন্দরবন’-সংলগ্ন চিংড়ি ঘেরের কর্মচারী আব্দুল গফুর ও মহিবুল্লাহ জানান, রোববার রাতে কে বা কারা মিনি সুন্দরবনের ভেতরের অংশের শত শত গাছ কেটে নিয়ে যায়। ফজরের নামাজের পর গাছ নিয়ে সটকে পড়ার সময় তারা ওই বন পাহারার দায়িত্বে থাকা সিরাজুলকে সদ্য কাটা গাছসহ আটক করেন।
পাশের ঘেরের কর্মচারী কেরামত আলীসহ স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেন, গ্রামেরই কিছু দুস্কৃতকারী গত কয়েক বছর ধরে ‘মিনি সুন্দরবনের’ গাছ কেটে পাচারসহ জ্বালানীর কাজে ব্যবহার করছে। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সোলায়মান ও হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দুইজনকে ‘মিনি সুন্দরবন’ পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ‘প্রগতি’ নামে একটি এনজিও বন সুরক্ষার দায়িত্ব নেয়। অল্প দিনের মধ্যে তারাও মাদার নদীর চরে গড়ে ওঠা বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণে অমনোযোগী হওয়ার সুযোগে দুর্বৃত্তরা প্রায় প্রতিদিন গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করছে।
গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ভাই বিক্রির জন্য এসব গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছে।’
তবে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী শেখ আফজালুর রহমান জানান, মিনি সুন্দরবন শুধু উপকূল রক্ষা বাঁধকে রক্ষা করে না, বরং ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকেও এলাকাবাসীকে বিভিন্ন সময় রক্ষা করেছে। ‘পাখি আলয়’ হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছিল ‘মিনি সুন্দরবন’। কিন্তু দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা আর স্থানীয়দের গাফিলতিতে মাদার নদীর চরে গড়ে ওঠা বন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
এবিষয়ে প্রগতির পরিচালক আশেক-ই এলাহী জানান, এক সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘মিনি সুন্দরবন’ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রগতি পালন করতো। পরবর্তীতে কাজের ক্ষেত্র বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রগতি ওই বনাঞ্চল তদারকির দায়িত্ব থেকে সরে আসে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বেশি দিন নেই শ্যামনগরে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ওই বনভূমি রক্ষার বিষয়ে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন