‘হয়রানির’ প্রতিবাদে বেনাপোলে পণ্যের শুল্কায়ন বন্ধ

আপডেট: 02:39:26 16/10/2020



img

শহিদ জয় : বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। কাস্টমস কর্তৃক শুল্কায়ন ও পণ্য পরীক্ষণে নানা ‘হয়রানির’ প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।
সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলছেন, বেনাপোল কাস্টমসে কাজ করার পরিবেশ নেই। শুল্কায়ন গ্রুপের সুপারিনটেনডেন্টরা মনে যা আসে, তাই তাই করতে চান। আমদানি করা পণ্যের একটি ফাইল গ্রুপে নিয়ে গেলে তারা ইচ্ছামতো এইচএস কোড এবং ভ্যালু পরিবর্তন করতে চান। তারা আগের কোনো এইচএস কোড বা রেফারেন্স মূল্য, ডাটাশিট মূল্য মানতে চান না। তারা জোর করে ১০ শতাংশ শুল্ককে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছ বেনাপোল কাস্টমসের তিন ও চার নম্বর শুল্কায়ন গ্রুপে। এই দুই গ্রুপে কর্মরত দুই কাস্টমস অফিসার ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করেন।
এদিকে বেনাপোল কাস্টমসের একটি পরীক্ষণ গ্রুপ ইনভেস্টিগেশন রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) কর্তৃক পণ্য পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমদানি করা একই পণ্য এখন তিনবার পরীক্ষা করতে হচ্ছে। তিনবার আলাদা আলাদাভাবে পরীক্ষা করার কারণে বাড়তি শ্রমিক খরচ দিতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই পণ্য বারবার পরীক্ষা করার কারণে সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক দিন। একটি পণ্য পরীক্ষণ করে তার রিপোর্ট নিতে এখন সময় লাগছে সাত থেকে দশ দিন। অনেক সময় ১৫ দিনও সময় লাগছে। এসব কারণে আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান, কাস্টমস অফিসার কর্তৃক পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। অফিসাররা কোনো এইচএস কোড ও রেফারেন্স বা ডাটাশিট মূল্য মানতে চান না। ডাটা শিটে সর্বনিম্ন মূল্যে আমদানিকৃত পণ্য শুল্কায়ন করার কথা থাকলেও কাস্টমস অফিসাররা তা মানেন না। তারা সব সময় উচ্চতর মূল্যে শুল্কায়ন করতে চান। বাংলাদেশের সব কাস্টম হাউসে ডাটাশিট মূল্য মানা হলেও ব্যতিক্রম শুধু বেনাপোল। এখানকার কাস্টম হাউজের কর্মকর্তারা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছামতো পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ করেন। এতে আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল কাস্টমসে হয়রানির কোনো শেষ নাই। মাল ঢোকা থেকে শুরু করে পরীক্ষণ ও শুল্কায়নে নানাবিধ হয়রানির শিকার হতে হয়। আমদানি করা একই পণ্য তিনবার পরীক্ষা করতে হচ্ছে। তাছাড়া শুল্কায়নে হচ্ছে নানা জটিলতা। তাই বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কর্তৃক নানাবিধ হয়রানির প্রতিবাদে পরীক্ষণসহ কয়েকটি গ্রুপে শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। কাস্টমস অফিসার কর্তৃক এসব হয়রানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ না হলে আগামীতে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন