ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে জুতাপেটা!

আপডেট: 09:39:09 25/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): শার্শার পল্লীতে হেফজ মাদরাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উপজেলার হরিণাপোতা গ্রামে। পরে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনা ‘নিষ্পত্তি’ করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
ঘটনাটি নাভারন সার্কেলের এএসপিকে অবগত করানো হলেও এখনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার হরিণাপোতা গ্রামে মকবুল ইসলামের বাড়িতে একটি অবৈধ আবাসিক মহিলা হেফজ মাদরাসা রয়েছে। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের গরিব ছাত্রীরা পড়াশুনা করে। মাদরাসার সাথেই বাড়িতে মকবুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বসবাস করেন এবং সামনে রয়েছে তার একটি গ্রাম্য ডাক্তারখানা। যে কারণে মনিরুলের সাথে ছাত্রীদের দেখা-সাক্ষাৎ হয় সবসময়। অভিযোগ, মনিরুল শুক্রবার বিকেলে মাদরাসার এক ছাত্রীকে পাশের ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানিসহ ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু ওই ছাত্রীর বান্ধবীরা হঠাৎ এসে পড়ার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় মনিরুল। পরে মেয়েটি বাড়িতে ফোন করে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায়। ঘটনা শোনার পর তার মা সন্ধ্যায় মনিরুলের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মনিরুলকে জুতাপেটা করে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান ওই নারী।
এলাকাবাসী জানান, মনিরুল ভদ্রঘরের সন্তান হলেও লম্পট প্রকৃতির। মাদরাসাছাত্রীদের সাথে এমন ঘটনা এর আগেও কয়েকবার সে ঘটিয়েছে। কিন্তু ভিকটিমরা লোকলজ্জায় মুখ খোলেনি। এবার যদি টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যায় তাহলে আবারও সে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, ঘটনার একদিন পর শনিবার সকালে হরিণাপোতা গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মোস্তাক হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মাদ আলী, ইমান আলী ও সান্টু ওই ছাত্রীর চাচা জুব্বার আলীর সাথে রাতের আঁধারে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নগদ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, ‘বিষয়টি এএসপি সার্কেল স্যারকে জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি কেউ স্বীকার করেনি। থানায়ও কেউ অভিযোগ দেয়নি। এধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন