চুয়াডাঙ্গায় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ

আপডেট: 03:55:05 05/10/2021



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় চারটি উপজেলার তিনটি কার্যালয়েই নেই সাব-রেজিস্ট্রার। সে কারণে জমি কেনা-বেচাতে চলছে অচলাবস্থা।
বর্তমানে এম নাফিজ বিন জামান চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থাকলেও দলিল লেখকদের অনুরোধে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে রেজিস্ট্রি কাজে প্রকট সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং জমি ক্রেতা-বিক্রেতা, দলিল লেখকসহ সেবাপ্রত্যাশী মানুষ পড়েছেন নানা হয়রানি ও বিড়ম্বনার মধ্যে। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন সমস্যা চললেও তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা ও লকডাউনের কারণে প্রায় তিন মাস একটানা বন্ধ ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলার সব অফিসের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম। এর পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও সংকট কাটেনি জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে।
লকডাউন-পরবর্তী সময়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মামুন বাবরকে সেখান থেকে ক্লোজ করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার স্মৃতিকণা দাস ও জীবননগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদুর রহমান বদলিজনিত কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তখন থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়গুলো সাব-রেজিস্ট্রারশূন্য হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কোনোমতে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন ১০ সেপ্টেম্বর যোগদান করা দামুড়হুদা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এম নাফিজ বিন জামান। তিনি একাই জেলার চার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ।
রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি রবি ও সোমবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলায় মঙ্গল ও বুধবার, আলমডাঙ্গা উপজেলায় রবি, সোম ও মঙ্গলবার এবং সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসেই জীবননগর উপজেলায় জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার সংকটের কারণে সব উপজেলায় একদিন করে জমি রেজিস্ট্রির কাজ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়গুলোতে জনবল সংকটের কারণে দিনরাত কাজ করেও কুলানো যেত না। আর এখন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে তিন উপজেলার কার্যক্রম। মাঝে মধ্যে দামুড়হুদা সাব-রেজিস্ট্রার ওই তিনটি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও সেটা সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী আনিসার ও জয়নাল শেখ নামে দুই ব্যক্তি জানান, সাব-রেজিস্ট্রার সঙ্কটের দোহাই দিয়ে অফিসগুলোতে চলছে ‘প্রকাশ্য ডাকাতি’। রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারের নামে কিছু দলিল লেখক ও দালাল প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা আদায় করছেন। সকাল থেকে রেজিস্ট্রির জন্য দলিল জমা নেওয়া হয়। নির্ধারিত দলিল সরিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য দলিল রেজিস্ট্রি করার কারণে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ অফিসে এসে সারাদিন বসে থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে কয়েক দিন যোগাযোগ করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত কর্মচারীরা তার মোবাইল ফোন নম্বর দিতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন।
কার্যালয়ে অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা রেজিস্ট্রার সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই তার বাড়ি কুড়িগ্রামে থাকেন। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টা ১৮ মিনিটে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন। এখন কার্যালয়ে ফিরছেন। তবে কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কথাটি তিনি অস্বীকার করেন।
জেলা রেজিস্টার শফিকুল ইসলামের ছুটি সংক্রান্ত বিষয়টি তারই কার্যালয়ের টাইপিস্ট উজ্জ্বল জানেন না বলে জানান। তবে রেজিস্ট্রার বিভিন্ন কাজের কারণে জেলার বাইরে থাকেন বলে এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সঙ্ককটের বিষয়টি সম্পর্কে জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিবন্ধন অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ার কাজ করে আইন মন্ত্রণালয়। তবে আলমডাঙ্গা উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে একজনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে যোগদান করবেন। আশা করা যাচ্ছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রারের পদ তাড়াতাড়ি পূরণ হবে।

আরও পড়ুন