মণিরামপুরে আগাম প্রচারণায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা

আপডেট: 09:40:05 25/09/2021



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে- এমন আভাস পেয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে মাঠে নেমেছেন চলতি দায়িত্বে থাকা পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান। চালাচ্ছেন আগাম প্রচারণা। দিনরাত মতবিনিময় সভা বা উঠান বৈঠক করে চলেছেন। ঘুরছেন পাড়ায় পাড়ায়। কথা বলছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে। সেসব ছবি কখনো নিজের ফেসবুক ওয়ালে, কখনো অন্যের আইডিতে ছড়িয়ে উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মণিরামপুর উপজেলা। গেল ইউপি নির্বাচনে এসব ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন, স্বতন্ত্র বা দলের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন দুইজন এবং বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন তিনজন। করোনার কারণে যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ায় নির্বাচিত এসব চেয়ারম্যানের মেয়াদ দেড় মাস আগেই শেষ হয়েছে।
লকডাউন উঠে যাওয়ায় আবার শুরু হয়েছে নির্বাচন। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে বিভিন্ন উপজেলায় ইউপি নির্বাচন হয়েছে। সামনের ধাপে মণিরামপুরের নাম ঘোষণার আভাস পেয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে মাঠে নেমেছেন অধিকাংশ চেয়ারম্যান। তাদের মধ্যে পাঁচ চেয়ারম্যানের আগাম প্রস্তুতির কিছু ছবি ফেসবুকে ঘুরছে।
তারা হলেন, শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, মশ্মিমনগর ইউনিয়নের নৌকার চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, চালুয়াহাটির চেয়ারম্যান নৌকার ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল হামিদ ও খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র) এসএম আব্দুল হক।
আব্দুল হামিদ ও আব্দুল হক গেলবার নৌকা প্রতীককে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবার নৌকা পেতে দলের লোকজন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা।
এদিকে, সামনের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েক নতুন মুখের দেখা মিলছে। তারা নিয়মিত শোডাউন ও মতবিনিময় সভাসহ প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। তবে ইউপি নির্বাচন ঘিরে মাঠে দেখা যাচ্ছে না বিএনপির প্রার্থীদের। তাদের কোনো প্রচারণা প্রকাশ্যে আসছে না।
জানতে চাইলে শ্যামকুড় ইউপির চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমার মরহুম বাবা নওয়াব আলী দীর্ঘদিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি একবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আব্বার মৃত্যুর পর থেকে আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। গেলবার নৌকা নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছি। সামনে আবারো নৌকা পেতে আগেভাগে কাজ শুরু করেছি।’
মশ্মিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, ‘আবারো নৌকা পাওয়ার আশায় কাজ করছি। দলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছি। তবে নৌকা না পেলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। বিদ্রোহী হবো না।’
চালুয়াহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ‘গতবার বিদ্রোহী ছিলাম না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছি। এবার নৌকা প্রতীকের আশা নিয়ে উঠান বৈঠক অব্যাহত রেখেছি।’
খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা জরিপ চালাচ্ছে। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করছি। সরকারের উন্নয়নের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরছি।’
তবে এই ব্যাপারে জানতে একাধিকবার কল করেও সাড়া মেলেনি খানপুরের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলীর।

আরও পড়ুন