মহম্মদপুরে ফসলী জমিতে 'বাঘের' পায়ের ছাপ

আপডেট: 05:07:18 15/06/2021



img

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে মরিচক্ষেতে বাঘের বিচ্ছিন্ন ও সারিবদ্ধ পায়ের কিছু ছাপ দেখা গেছে।
বুধবার বিনোদপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া এলাকায় একটি মরিচক্ষেতে বাঘের পায়ের ছাপগুলো দেখে এলাকার লোকজন। বাঘ দেখার খবরে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে কেউ মাঠমুখো হচ্ছে না।
জমির মালিক কাজী উমর আলী দাবি করেন, বেথুলিয়া এলাকায় কালিগাঙ নামে একটি খালের পাড়ে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। সকালে  পরিচর্যার জন্য ক্ষেতের উদ্দশ্যে বের হন। ক্ষেত থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে গেলেই তিনি বড় একটি বাঘ দেখতে পান। ভয়ে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যান। দূর থেকে তিনি তিনটা বাঘ দেখেন, একটা বড়। তিনি ধারণা করছেন, মা বাঘের সাথে দুটি বাচ্চা ছিল।
এরপর তিনি চিৎকার শুরু করলে গ্রামের ১০-১৫ জন সেখানে জড়ো হন। তারা সবাই বাঘ দেখেছেন বলে তিনি দাবি করেন। একপর্যায়ে বাঘগুলো পাশের পাটক্ষেতের মধ্যে চলে যায়।  
সরেজমিনে মরিচক্ষেতের মধ্যে, আশপাশে পায়ের ছাপ দেখা গেছে। তখন সবাই মত দিলেন এটি বাঘের পায়ের চিহ্ন। এছাড়া এই এলাকার অনেকেরই গবাদি পশু হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পায়ের ছাপ দেখে বড় আকৃতির চিতাবাঘ হতে পারে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
স্কুল শিক্ষক আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তারা ভয়ে আছেন। বাঘের ভয়ে ফসলের মাঠে যাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম আজম সাবু জানান, মহম্মদপুরে রেকর্ড ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর পাটের আবাদ হয়। পাট বড় বলে ফসলের মাঠ ঢেকে যায়। এসময় বাঘ বের হওয়ার গুজব শোনা যায়। এবার বাঘ দেখা গেলো। তিনি বলেন, এখানে মেছো বাঘের দেখা মিলেছে। কিন্তু কখনো বাঘ বা চিতাবাঘ দেখেননি। তবে তার দাদার মুখে শুনেছেন, এখানে একসময় চিতাবাঘ হানা দিত।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিকদার মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বনবিভাগের কর্মকর্তারাদের জানানো হয়েছে। তারা এসে  আলামত সংগ্রহ করবেন বলে তিনি জানান।
মাগুরা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, এ এলাকায় মেছোবাঘ ও ছোটো আকৃতির চিতাবাঘের বিচরণ আছে। অনেক সময় গ্রামবাসীর হাতে বাঘ মারা পড়ে। আলামত সংগ্রহের পর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বাঘের প্রজাতি ও আকৃতি সম্পর্কে জানা জানা যাবে।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল জানান, বাঘের পায়ের ছাপ দেখার বিষয়টি শুনেছেন। এ বিষযে বনবিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

আরও পড়ুন