কেশবপুরের ‘হিরো আলমের’ দাম ১৫ লাখ টাকা

আপডেট: 10:42:16 15/07/2021



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মানুষকে বিনোদন দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হিরো আলম। সেই হিরো আলমের নামেই রাখা হয়েছে মোষ মার্কা জাতের ২৭ মণ ওজনের ষাঁড়ের নাম।
কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের রমজান মোড়লের ছেলে মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের গরু এটি। এই 'হিরো আলমের' বয়স প্রায় চার বছর। লম্বায় সাড়ে আট ফুট। উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি।
কেশবপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মেয়ে মিথিলা আক্তার পলি টিনের চালাঘরে রাখা 'হিরো আলমকে' যত্ন করছেন। গরুটিকে প্রতিদিন তিনবেলা ভুষি, খৈল, ভুট্টা ও ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি কমলা লেবু, মাল্টা, পাকা কলা, বাদাম এবং পাউরুটিও খেতে দেওয়া হয়। প্রতিদিন তাকে খাওয়ানোর জন্য প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়।
সাতক্ষীরা থেকে সাড়ে তিন বছর আগে আজিজুর দুই লাখ টাকা দিয়ে একটি বাছুর কেনেন। এরপর নামকরণ করা হয়। ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় মোস্তফা কামাল বলেন, ''হিরো আলমের' মতো এত বড় গরু আমাদের এই এলাকায় আর নেই। গরুটিকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে।''
আজিজুর রহমান বলেন, 'গরু লালন-পালন করতে আমার খুব ভালো লাগে। পরিবারের সবাই মিলেই গরুর যত্ন করা হয়। এই গরুটি উপজেলার সবচেয়ে বড়। তাকে এবার বিক্রি করা হবে। আমরা ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে গরুটি বিক্রি করা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত আছি। কোনো পশুহাটে তাকে এখনও নেওয়া হয়নি।  বাড়ি থেকেই ক্রেতা বা ব্যবসায়ীর কাছে গরুটি বিক্রি করতে চাই।'
স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক আব্দুর রহিম বলেন, 'ছোট অবস্থা থেকেই গরুটির চিকিৎসা দিয়ে আসছি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন আজিজুর রহমান। এর উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। দৈর্ঘ প্রায় সাড়ে আট ফুট। ওজন ২৭ মণ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘লকডাউনের কারণে কুরবানির পশু বিক্রি ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে খামারিরা চিন্তিত রয়েছেন। আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য অ্যাপ তৈরি করেছি। ওই অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ পশু বিক্রি করতে পারবেন।’
তিনি জানান, আজিজুরের ষাঁড়টি বিক্রিতে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।