করোনাকালে চুলা জ্বলছে না সায়েরা বানুদের

আপডেট: 02:47:21 15/07/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা: বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিয়ে সংসার চলতো সন্তানহারা বিধবা বৃদ্ধা সায়েরা বানুর (৬৫)। সম্প্রতি করোনার কারণে তা-ও বন্ধ। তাই দুটি এতিম নাতনি ও পুত্রবধূসহ অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছেন শহরের দোয়ারপাড় এলাকার এই নারী।
সরকারি হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এ কয়েকদিন চেষ্টা করে ব্যর্থ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ‘সকালে কি বিকালে আসেন’ বলে এড়িয়ে যান। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়ে ব্যর্থ এই নারীর এখন দিশেহারা অবস্থা।
মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ওলিয়ার মল্লিকের স্ত্রী সায়েরা বানুর দুর্দশা দেখতে কেউই এগিয়ে আসেননি। করোনার কারণে দীর্ঘ লকডাউনে তার সংসারের দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সায়েরা বানু জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে একমাত্র ছেলে মিঠুন মিয়া স্ত্রী ও দুটি মেয়েশিশু রেখে পানিতে ডুবে মারা যান। ছেলের শোকে কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ওলিয়ার মল্লিকও চিরবিদায় নেন। মিঠুনের স্ত্রী নূপুর ও তার দুটি মেয়েসন্তান মিনু ও তনুকে নিয়ে অকুল পাথারে পড়েন সায়েরা বানু। এ সময় নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এলাকার বাড়িতে বাড়িতে কোরআন প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন তিনি। এতে চলে যাচ্ছিল তার সংসার। সম্প্রতি করোনার কারণে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার সেই প্রশিক্ষণের কাজটিও বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে না পারা, আবার আয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
সায়েরা বানু বলেন, ‘‘এলাকার অধিকাংশ মানুষই গরীব। এ অবস্থায় তাদেরই পেট চলে না। আমাকে সাহায্য করবে কে? কয়েকজনের পরামর্শে সরকারি হেল্প লাইন নম্বর ৩৩৩-তে ফোন দিয়ে সংযোগ পেতে বারবার ব্যর্থ হয়েছি। এলাকার পৌর কাউন্সিলরের বাড়িতে বারবার গিয়ে একই অবস্থা। শেষমেশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ফোন করে নিজের কষ্টের কথা বললে তিনি ‘পরে দেখবেন’ বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দশ দিন চলে গেলেও কোনো খোঁজই নেননি।’’
‘মানুষের বাড়িতে বারবার ধরনা দিতে আত্মসম্মানেও বাধে। আমার তো চারটি প্রাণ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মাঝে শুধুমাত্র জেলা যুবলীগের হটলাইন টিমের নেতা ফজলুর রহমানের কাছ থেকে সামান্য কিছু খাবার পেয়েছি। এখন যে কী অবস্থা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদে শিশু নাতনিদের মুখে সামান্য সেমাই তো দূরের কথা এখনই দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে,’ বলছিলেন সায়েরা বানু।
তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সহায়তা আশা করেন।