বেনাপোল বন্দর অটোমেশন, বেড়েছে স্বচ্ছতা

আপডেট: 04:21:16 26/09/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): প্রায় দেড় বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অটোমেশন সেবার আওতায় এলো দেশের সব চেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। ফলে আমদানি পণ্যের সকল তথ্য এখন কম্পিউটার ডাটাবেজে এন্ট্রি হচ্ছে।
অটোমেশন সেবা চালু হওয়ায় ঘরে বসেই কম্পিউটার আর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। এর ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানি এবং খালাসে ফিরবে স্বচ্ছতা, দ্রæত বাণিজ্য সম্পাদনের পাশাপাশি বাড়বে নিরাপত্তা ও গতিশীলতা।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশের স্থলপথে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব উপার্জনকারী বেনাপোল স্থলবন্দর। ১৯৭২ সালে বেনাপোল বন্দরের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে আগেই অটোমেশন হয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউজ। তবে বন্দর অটোমেশন না হওয়ায় কাজের সমন্বয়হীনতার কারণে ব্যবসায়ীদের বেশ বেগ পেতে হতো।
বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৯ সালে জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়। চলতি মাসে এসে পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় এ অটোমেশন সেবা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, রাজস্ব দপ্তর, এন্ট্রি শাখা, ওয়্যারহাউজসহ সবখানে অটোমেশন পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে।
আমদানি করা পণ্য বন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য থাকছে কর্মকর্তাদের নজরে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরাও ঘরে বসেই তাদের পণ্যের অবস্থান জানতে পারছেন। এখন ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দর এলাকায় প্রবেশের পর মালামালের সঠিকতা নিরুপণ, স্কেলে ওজন, শেড বা ইয়ার্ডে পোস্টিং, পণ্য বন্দরে আনলোড করে ভারতীয় গাড়ি ফিরে যাওয়ার যাবতীয় তথ্য সহজেই জানা যাচ্ছে। এর ফলে সুফল পেতে শুরু করেছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও আট হাজার কোটি টাকার মালামাল রফতানি হয়ে থাকে। আমদানি বাণিজ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে বন্দরটি আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। আগে শুল্ক ফাঁকি থেকে শুরু করে একজনের পণ্য অন্যজন নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বন্দরে। অটোমেশন হওয়ায় এখন সে সুযোগ আর নেই। ব্যবসায়ীরা এখন ঘরে বসেই তার বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে যখন ইচ্ছা জানতে পারছেন। এতে বাণিজ্যক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়্যারহাউজ সুপার ধনঞ্জয় বার্মা বলেন, আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রি করা হয়। ফলে দ্রæত তথ্য প্রদান করা যায় সংশ্লিষ্টদের। বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসব তথ্য চোখের পলকে দেখতে পারছেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, কাস্টমসের পাশাপাশি বন্দর অটোমেশন হওয়ায় বাণিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে। আমদানিকারকরা তথ্য চাইলে দ্রুত সরবরাহ করা যাচ্ছে। তারা ইচ্ছে করলে নিজেরাও আমদানির তথ্য মোবাইল ফোনে দেখতে পারছেন। তবে বন্দরের সাথে কাস্টমসের অটোমেশন সংযোগ হলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যাবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, চট্রগ্রামের পর বেনাপোল বন্দর অটোমেশন হলো। ২০১৯ সালের শেষে দিকে পাইলট প্রকল্প হিসাবে বেনাপোল বন্দরে অটোমেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়। সার্চ ইঞ্জিনে (যেমন গুগল ক্রোম) ঢুকে আমদানিকৃত পণ্যের মেনিফেস্ট নম্বর এন্ট্রি করে ওয়েব অ্যাড্রেসে সার্চ দিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক তার পণ্যের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারবেন।
তিনি বলেন, এখন সব সেবা চালু হওয়ায় সুফল পেতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য নজরদারিতে থাকছে। এটি বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রায় দুই কোটি টাকা চুক্তিতে ‘ডাটাসফট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে গত ২০ আগস্ট বেনাপোল বন্দরে অটোমেশন কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়।
এর আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতবছর অটোমেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেও জনবলের অভাবে তা চালু হয়নি বলে জানান বন্দরের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন