‘আমাদের দুঃখ কেউ বুঝলো না’

আপডেট: 09:26:26 24/09/2021



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুরের বহু কাদার রাস্তার চারটির অবস্থান ঢাকুরিয়ার ভবানীপুরে। রাস্তা চারটির দুই হাজার ফুট তথা ৬০০ মিটার কাদায় চরম ভোগান্তিতে এখানকার দুইশ' পরিবার। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ফুলতলা মোড় থেকে উত্তর দিকে লুৎফর মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির ৫০ মিটার অংশ চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। বছরের পর বছর গ্রামের লোকজন দুর্ভোগে থাকলেও রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসেননি কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবানীপুর গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারে দেড় হাজার লোকের বসবাস। যাদের মূল পেশা কৃষি। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হাফিজিয়া মাদরাসা, তিনটি মসজিদ রয়েছে। গ্রামের পাশেই ঢাকুরিয়া-কুয়াদা পাকা সড়ক। পাকা রাস্তায় উঠতে গ্রামের পশ্চিমপাড়া গভীর সেচপাম্প থেকে মোল্লাবাড়ি পর্যন্ত ৬০০ ফুট, পাম্প থেকে হজরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত ৩০০ ফুট, নূর ইসলামের দোকান থেকে পশ্চিমপাড়া পাম্প পর্যন্ত এক হাজার ফুট এবং পূর্বপাড়া মসজিদ থেকে পাম্প পর্যন্ত ২০০ ফুট রাস্তা বৃষ্টির পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ রাস্তায় বাইসাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারেন না। ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাগুলো অবহেলিত। মাঝেমধ্যে ‘কর্মসূচির লোক’ দিয়ে নামমাত্র মাটি ফেলা হয়; যা তেমন কোনো কাজে আসে না। রাস্তায় প্রয়োজনীয় কালভার্ট না থাকায় পানি জমে যায়।
ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিবার রহমান বলেন, ‘ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা কথা দিলেও পরে আর কাজ করেন না। বর্ষা মৌসুম ধরে কাদা থাকে রাস্তায়। একটা সাইকেল পর্যন্ত চলতে পারে না। সলিং হচ্ছে হবে- এমন আশ্বাস দেন সবাই। পরে আর মনে রাখেন না। আমাদের দুঃখ কেউ বুঝলো না।’
ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাত নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাস্তার কাদায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অনেক চেষ্টা করেছি। রাস্তা সংস্কার করাতে পারিনি।’
মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘ভবানীপুরের রাস্তার খারাপ অবস্থা দেখেছি। দ্রুত রাস্তা সলিং করে জনগণের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করব।’