শার্শায় ২০০ মৎস্যজীবী পরিবার বিপাকে

আপডেট: 06:25:11 05/10/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): সরকারি নির্দেশে যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর খালে মাছ ধরতে না পেরে গ্রামের প্রায় দুইশত পরিবার বিপাকে পড়েছে।
রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, তার সংসারে আটজন সদস্য। মাছ ধরে ও বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। এক সপ্তাহ হলো তাদের জাল তুলে দেওয়া হয়েছে বিল ও খাল থেকে। তারা এখন সম্পূর্ণ বেকার জীবনযাপন করছেন। সংসার চলছে না তার।
একই গ্রামের আকবর হোসেনের ছয়জনের সংসার। তিনিও মাছ ধরে জীবন চালান।
রুদ্রপুরের শাহারুল, দাদখালীর তৈয়ব, ভবানীপুর গ্রামের পিন্টু ও আইয়ুব আলীসহ প্রায় দুইশ’ পরিবারের সংসার চলে মাছ ধরে। খালে মাছ ধরতে না পারায় তারা এখন বেকার। তাদের অভিযোগ, মাছগুলো খাল দিয়ে ভারতে চলে যায়। অথচ তাদের সেগুলো ধরতে দেওয়া হচ্ছে না।
রুদ্রপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই এ অঞ্চলের খালে-বিলে উজান থেকে ভারতের মধ্যে দিয়ে নদ-নদীতে পানি আসতে শুরু করে। মাঘ মাস পর্যন্ত খাল বিল পানিতে ডুবে থাকে। কোনো ফসল হয় না। এসময় লোকেরা মাছ ধরে সংসার চালান। মাছগুলো খাল দিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার সময় এখানকার মৎস্যজীবীদের জালে আটকা পড়ে।
জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে পানি বাধাগ্রস্ত হয় না বলেও তিনি জানান। তার মতে, এতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।
তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলছেন ভিন্ন কথা। তার ভাষ্য, তারা (জেলেরা) মাছের পথ আটকে মাছ ধরার কারণেই তাদের জাল তুলে নিতে বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে খালে মাছ ধরলে কোনো আপত্তি নেই। তবে খালের এপাশ-ওপাশ আটকে মাঝখানে জাল পেতে মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, জালের দণন পাশে মাছের যাতায়াতের রা¯স্তা অবশ্যই রাখতে হবে। ভ্যাসালি জাল ও খেপলা জাল দিয়েও মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে পারেন।

আরও পড়ুন