পেঁয়াজ আমদানি খুব কম, চড়ছে দাম

আপডেট: 03:54:29 05/10/2021



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর): স্থলবন্দরগুলো দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে এই নিত্যপণ্যের দাম। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা দরে।
ভারতের নিষেধাজ্ঞা না থাকা ও ভারতীয় কৃষিপণ্য মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘ন্যাপেড’ রফতানি মূল্যও না বাড়ালেও পেঁয়াজ আমদানিতে তেমন উৎসাহ নেই আমদানিকারকদের।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। সে কারণে পেঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছে সেদেশে। তাদের বাজারে পেঁয়াজের দাম খানিকটা বেড়েছেও। সেখানে পেঁয়াজের পাইকারি দর কেজি প্রতি ২২ থেকে ২৩ রুপির মধ্যে। আর খুচরা বাজারে ২৪ থেকে ২৬ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও যা ছিল ১৬ থেকে ১৮ রুপি কেজি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত (১৩ দিনে) দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে মাত্র ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ২২ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ৩০ টন করে আমদানি হয় এ পথে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেশি না হওয়ায় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সুষ্ঠু মনিটরিং থাকলে দাম কিছুটা কম হতে পারে বলে ক্রেতারা বলেছেন।
বেনাপোলের পাইকারি বিক্রেতা শুকুর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম। আর যা আসছে তা বস্তায় অর্ধেক পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একরম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশ এষনও পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ না।
পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী নূরুল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গত দুই চালানে মাত্র ৬০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছি। প্রতি মেট্রিক টন ২৬০ মার্কিন ডলারে এলসি করেছি; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ হাজার ৮৭ টাকা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা দেখা দেওয়ায় সেদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ওই পেঁয়াজ এনে খরচ বাদ দিয়ে লাভ নেই। অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে পেঁয়াজ আনতে আমদানিকারকরা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজ একটু বেশি দামে কিনলেও ভারতীয় পেঁয়াজ নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কিনে থাকে। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ তেমন আমদানি না থাকায় দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।’
বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মা সরস্বতী এজেন্সি’র স্বত্বাধিকারী বাপ্পা মজুমদার জানান, বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম ভারতের বাজারে বেড়েছে। পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ভারত সরকারের কৃষিপণ্য মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘ন্যাপেড’ পেঁয়াজ রপ্তানিতে কোনো মূল্য নির্ধারণ করেনি। কী কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের এলসি করছে না সেটা আমি জানি না।’
বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সর্বশেষ গত মাসের ২২ ও ৩০ তারিখে ভারত থেকে দুই চালানে ৬০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি মেট্রিক টন ৩১০ মার্কিন ডলারে অ্যাসেসমেন্ট (শুল্কায়ন) হচ্ছে; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার ৩৪৫ টাকা। পণ্য ছাড় করাতে ব্যবসায়ীদের শুল্কায়ন মূল্যের ওপর শতকরা ৫ ভাগ হারে শুল্ক ও ৫ ভাগ এআইটি পরিশোধ করতে হয়।

আরও পড়ুন