তিনজন হত্যা: সৌমেনকে আদালতে নেওয়া হবে

আপডেট: 02:32:18 14/06/2021



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: নারী, শিশুসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই সৌমেন রায়কে একমাত্র আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহত শাকিলের বাবা মেজবার রহমান।
রোববার রাতে মামলাটি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব্বিরুল আলম। আজ সোমবার দুপুরে সৌমেনকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ হেফাজতে থাকা সৌমেন রায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তার স্ত্রী আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য তিনি স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি খুলনা থেকে বাসযোগে কুষ্টিয়ায় যান। তিনি তার পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনে ১২টি গুলি সঙ্গে নিয়ে আসেন। সৌমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে শাকিলকে এরপর আসমাকে গুলি করেন। ওই সময় শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও গুলি করেন। একটি ম্যাগাজিনের গুলি শেষ হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যবহার করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই সৌমেন এমন তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ফরহাদ হোসেন খান।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত আসমা ও তার ছেলেকে নিজ বাড়ি কুমারখালীর নাতুড়িয়া গ্রামে ও শাকিল খানকে চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার বেলা ১১টার দিকে শহরের কাস্টম মোড়ে আসমা খাতুন ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে রবিন এবং শাকিল নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে আসমার স্বামী এএসআই সৌমেন রায়। এ ঘটনায় পুলিশ সৌমেনকে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। বিকেলে সৌমেনকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি খুলনা রেঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার আসপা গ্রামে।

আরও পড়ুন