খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান দিলেন চেয়ারম্যান

আপডেট: 07:38:39 21/09/2021



img
img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল: গ্রেফতার চেয়ারম্যান পলাশের দেখানো স্থান থেকে পুলিশ উদ্ধার করলো দুটি দেশি অস্ত্র- একটি সামুরাই ও একটি ছ্যান দা। এই অস্ত্র দুটি লিয়াকত সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে খুনে ব্যবহৃত হয়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নড়াইলের। আজ মঙ্গলবার জেলার পুলিশ সুপার প্রবীরকুমার রায় প্রেস কনফারেন্সে এসে এই ঘটনার বর্ণনা দেন।
গত ২৮ আগস্ট রাত আটটার দিকে নড়াইল শহরতলির সীমাখালি এলাকায় লিয়াকত শিকদার (৫০) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই পাশের একটি বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়
নিহত লিয়াকত শিকদার সিমাখালী এলাকার সোহরাব শিকদারের ছেলে। খুনের ঘটনায় থানায় রুজু হওয়া মামলার সূত্র ধরে পুলিশ পুলিশ একে একে তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। আর ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ পুলিশকে দেখিয়ে দিয়েছেন লিয়াকত খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র কোথায় আছে।
এই বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসপি প্রবীরকুমার রায় জানান, ইতিমধ্যে মামলাটির তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, মামলার প্রধান আসামি আউড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাশ মোল্যা, পাঁচ নম্বর আসামি সীমাখালি গ্রামের শাহাজান শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩০) এবং ১২ নম্বর আসামি একই গ্রামের নয়নকুমার গুহর ছেলে গোপীনাথ গুহ (৩০)।
পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তুষারকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে লিয়াকত সিকদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি পলাশ মোল্যা, রুবেল শেখ ও গোপীনাথ গুহকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামি রুবেল শেখ ও গোপীনাথ গুহ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর প্রধান আসামি পলাশ মোল্যার দেখানো মতে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি স্যামুরাই ও একটি ছ্যান দা উদ্ধার করা হয়।
মামলার অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
খুনের পর স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, লিয়াকত সিকদারের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আউড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান পলাশ মোল্যার সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।এনিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
খুনের ঘটনায় আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাশ মোল্যাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আসমা বেগম। ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করেন তিনি।
এর আগে নড়াইলে আলোচিত লিয়াকত সিকদার হত্যা মামলায় নাছিম সিকদার (২৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
নাছিম সীমাখালি এলাকার তবিবর রহমান সিকদারের ছেলে। চলতি মাসের প্রথম দিকে তাকেও ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন