দেড় বছর ধরে সুপেয় পানি পাচ্ছেন না ঋষিরা

আপডেট: 01:29:05 12/07/2021



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুরের অবহেলিত একটি জনপদের নাম ইত্যা ঋষিপল্লী। বহুদিন ধরে নানা সুযোগ-সু্বিধাবঞ্চিত ছিল এই পল্লীর শতাধিক পরিবার। ছিল না ভালো রাস্তা, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এখন অবশ্য ধীরে ধীরে তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে।
ইত্যা ঋষিপল্লীর বাসিন্দাদের কথা চিন্তা করে পাঁচ বছর আগে তৎকালীন ইউএনও কামরুল হাসান বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করেন। সাবমারসিবল পাম্প ও ট্যাংক বসিয়ে তিনি ঋষিদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেন। যেখানে বিনা খরচে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে পানি ওঠে। ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস প্রকল্পটির কাজ শেষ করে। সহজে পানি পাওয়ার জন্য প্যানেলের নিচে দুটিসহ আশপাশে দশটি ট্যাপ বসানো হয়।
এরপর থেকে ওই জনপদের ১৩০টি পরিবার নিরাপদ পানি পান করে আসছিলেন।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে গেল বছরের ২০ মে। সাইক্লোন আম্পানে সোলার প্যানেল উড়ে গিয়ে প্রকল্পটি অকেজো হয়ে পড়ে। সেই থেকে নিরাপদ পানির সমস্যায় ভুগছেন এখানকার বাসিন্দারা। একাধিকবার লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও চালু করা যায়নি প্রকল্পটি।
রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, ঋষিপল্লীর মন্দিরের সামনে চারটি পিলার গেঁথে ২০-২৫ ফুট ওপরে দেড়-দুই হাজার লিটারের একটি পানির ট্যাংক বসানো। ট্যাংকের ওপরে সংযুক্ত ১৯টি সোলার প্লেট রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে মোটর পাম্পের মাধ্যমে ট্যাংকে পানি ওঠে। সেই পানি ট্যাপের মাধ্যমে সবাই পেত। এখন প্রকল্পটি বিকল হয়ে পড়ে আছে; সুপেয় পানিও জুটছে না ঋষিপল্লীর বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রত্না দাস বলেন, 'রান্না ও খাওয়ার কাজ করতাম এই পানি দিয়ে। দেড় বছর ধরে তা নষ্ট হওয়ায় এখন আর পানি ওঠে না।'
সুশান্ত দাস বলেন, 'আর্সেনিকমুক্ত পানি খাতি পাচ্ছিনে। কল নষ্ট খাব কী এইরে! এখন বাড়ির কলের আয়রনআলা পানি খাতি হচ্ছে।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল দাস বলেন, 'আম্পান ঝড়ে তার ছিড়ে একটা সোলার প্লেট ঝুলে পড়ে। পরের দিন থেকে আর পানি ওঠেনি। দুইবার লিখিত আবেদনের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমকে জানিয়েছি। তিনি পিআইওর কাছে পাঠিয়েছেন। সেখানে গেলে পিআইও বলেছেন, বরাদ্দ নেই। দেড় বছর ধরে এখানকার মানুষ সুপেয় পানিবঞ্চিত।'
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, 'মেম্বার মিথ্যা বলছেন। তিনি আমার কাছে এই বিষয়ে কখনো আসেননি। আমি খোঁজ নিচ্ছি প্রকল্পটি আমাদের অফিসের কি না। যদি আমাদের হয় তাহলে দ্রুত প্রকল্পটি সচল করা হবে।'

আরও পড়ুন